হক্বের দা'ওয়াত সিদ্দীক্বিয়া দরবার

সন্ত্রাস-জঙ্গীপনা বিরোধী সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক পীর মুরিদী সুন্নতী দরবার

তওবাহ ও মার্জনা কামনার মাহাত্ম

mmdashraf siddique
calendar_month February 10, 2026 schedule 8 মিনিটের পঠন visibility 422 জন পাঠক
ফন্ট সাইজ:

​তওবাহ ও মার্জনা কামনার মাহাত্ম:
পবিত্র কুরআন শরীফ ও সহীহ হাদীস শরীফে বহু জায়গায় তাওবাহ ও ক্ষমা প্রার্থনার কথা উল্লিখিত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে যারা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করেছে, তাদের প্রশংসা করা হয়েছে।
​মহান আল্লাহ পাক বলেন-
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ (البقرة: ۲۲۲)
অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক তওবাহকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে ভালোবাসেন। (পবিত্র সূরা আল-বাক্বারা: ২২২ নং আয়াত)
​হযরত আনাস বিন মালিক (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, নবীজি পাক (ﷺ) ইরশাদ মুবারক করেন-
حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ وَهُوَ عَنْهُ – قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : اللَّهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ حِينَ يَتُوبُ إِلَيْهِ مِنْ أَحَدِكُمْ كَانَ عَلَى رَاحِلَتِهِ بِأَرْضِ فَلَاةٍ فَانْفَلَتَتْ مِنْهُ وَعَلَيْهَا طَعَامُهُ وَشَرَابُهُ فَأَيِسَ مِنْهَا فَأَتَى شَجَرَةً فَاضْطَجَعَ فِي ظِلِّهَا قَدْ أَيِسَ مِنْ رَّاحِلَتِهِ فَبَيْنَا هُوَ كَذَلِكَ إِذَا هُوَ بِهَا قَائِمَةً عِنْدَهُ فَأَخَذَ بِخِطَامِهَا ثُمَّ قَالَ مِنْ شِدَّةِ الْفَرَحِ اللَّهُمَّ أَنْتَ عَبْدِي وَأَنَا رَبُّكَ ، أَخْطَأَ مِنْ شِدَّةِ الْفَرَحِ
​অর্থ: হযরত আনাস ইবনে মালিক (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবীজি পাক (ﷺ) ইরশাদ মুবারক করেন- বান্দা যখন আল্লাহর কাছে তওবাহ করে তখন আল্লাহ্ পাক ঐ লোকের চেয়েও বেশি খুশী হন, যে মরুভূমিতে নিজ সওয়ারীর উপর আরোহিত ছিল। তারপর সওয়ারটি তার হতে হারিয়ে যায়। আর তার উপর ছিল তার খাদ্য ও পানীয়। এরপর নিরাশ হয়ে সে একটি গাছের ছায়ায় এসে আরাম করে এবং তার উটটি সম্বন্ধে সম্পূর্ণরূপে নিরাশ হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় হঠাৎ উটটি তার কাছে এসে দাঁড়ায়। অমনিই সে, তার লাগাম ধরে ফেলে। এরপর সে আনন্দে আত্মহারা হয়ে বলে উঠে, হে আল্লাহ! আপনি আমার বান্দা, আমি আপনার রব। আনন্দে আত্মহারা হয়ে সে ভুল করে ফেলেছে। (সহীহ মুসলিম- ২৭৪৭)
​আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, নবীজি পাক (ﷺ) ইরশাদ মুবারক করেন-
التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ
অর্থ: গুনাহ হতে তওবাহকারী ঐ ব্যাক্তির মত হয়ে যায়, যার কোনো গুনাহই নেই। (ইবনু মাজাহ হাদীস: ৪২৪০)
​হযরত আনাস (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, নবীজি (ﷺ) ইরশাদ মুবারক করেন-
كُلُّ ابْنِ آدَمَ خَطَّاءٌ وَخَيْرُ الْخَطَّائِينَ التَّوَّابُونَ
অর্থ: প্রত্যেক আদম সন্তান ভুল করে থাকে, আর ভুলকারীদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে তওবাহ করে। (তিরমিযী হাদীস/২৪২৩, ইবনু মাজাহ হাদীস/৪২৪১, হাদীসটি হাসান সহীহ)
​হযরত আবু হুরায়রা (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, নবীজি পাক (ﷺ) ইরশাদ মুবারক করেন-
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ لَمْ تُذْنِبُوا لَذَهَبَ اللَّهُ بِكُمْ وَلَجَاءَ بِقَوْمٍ يُذْنِبُونَ فَيَسْتَغْفِرُونَ اللَّهَ تَعَالَى فَيَغْفِرُ لَهُمْ.
অর্থ: আল্লাহর শপথ করে বলছি, যার কুদরতী হাতে আমার প্রাণ। তোমরা যদি গুনাহ না করো অর্থাৎ শয়তানের ধোঁকায় যদি গুনাহ্ হয়ে যায় আর তওবাহ না করো, তাহলে আল্লাহ পাক তোমাদেরকে সরিয়ে দিয়ে এমন এক জাতিকে নিয়ে আসবেন, যারা গুনাহ করে মহান আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে- তখন তিনি তাদের ক্ষমা করবেন। (সহীহ মুসলিম শরীফ ৪৯৩৬ নং হাদীস)
​হযরত আবু হুরায়রা (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, আমি হুজুর পাক (ﷺ) উনাকে বলতে শুনেছি-
وَاللَّهِ إِنِّي لَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ فِي الْيَوْمِ أَكْثَرَ مِنْ سَبْعِينَ مَرَّةً
অর্থ: আল্লাহর শপথ! আমি আল্লাহর নিকট প্রতিদিন সত্তর বারের বেশী ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তওবাহ করি। বুখারী শরীফের অন্য বর্ণনায় এসেছে, আমি প্রতিদিন একশত বার তওবাহ করি তোমাদেরকে তওবায় উৎসাহ দেওয়ার জন্য। (সহীহ বুখারী শরীফ ৫৮৩২ নং হাদীস)
​উপরোক্ত হাদীস শরীফ দ্বারা জানা যায় যে, পাপী ব্যক্তি তওবাহ ও ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে নিজ পাপের বোঝা থেকে মুক্ত হতে পারে। তারপর যত সৎ কাজ করবে তার দ্বারা সে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারবে। এইভাবে যখন সে মহান আল্লাহর নিকট কোনো কিছু চায় তখন তার দু’আ কবুল হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশী থাকে। পক্ষান্তরে গুনাহ হতে তাওবাহ না করেই যদি সে কোন কিছুর জন্য দু’আ করে তাহলে সেই দু’আ আল্লাহর নিকট কবুল নাও হতে পারে।
​অনুরূপ যদি কোনো ব্যক্তি নিজ গুনাহ হতে তওবাহ এবং ক্ষমা প্রার্থনা করার পরিবর্তে তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ), তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ) এবং তাহলীল (লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ) পাঠ করে, তাহলে সে নিজ অবস্থার প্রেক্ষাপটে অনুপযুক্ত কাজ করল।
​হক্কানী আলিমগণ বলেন- ময়লাযুক্ত কাপড়ে সুগন্ধি ব্যবহারের পরিবর্তে তাকে সাবান দিয়ে পরিষ্কার করা উচিৎ। অর্থাৎ, পাপী ব্যক্তি তওবাহ ও ক্ষমা প্রার্থনা করে সর্বপ্রথম নিজেকে গুনাহের ময়লা-আবর্জনা হতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পর নিজেকে তাসবীহ-তাহলীলের এবং ফরয, ওয়াজিব, সুন্নাত ও নফল দ্বারা সুগন্ধিময় করবে।

লেখক সম্পর্কে

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

share

এখনই শেয়ার করুন

ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ

edit মন্তব্য করুন

person
email

যোগাযোগ শুরু করুন

দ্বীনি জিজ্ঞাসা বা সহায়তা দরকার?

আপনি প্রশ্ন করতে চাইলে, বিস্তারিত বার্তা পাঠাতে চাইলে বা সরাসরি কল করতে চাইলে নিচের অপশনগুলো থেকে একটি বেছে নিতে পারেন।

২৪/৭ অনলাইন সেবা
১০০+ দ্বীনি প্রশ্নের উত্তর
৫০০০+ সন্তুষ্ট মুসলিম

🛒 শপিং কার্ট

কার্টে কোনো বই নেই।