কেন পালিত হয় পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম?
উপমহাদেশসহ সমগ্র বিশ্বজুড়ে হিজরি রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখের রাতে মহান সংস্কারক, প্রখ্যাত সুফি সাধক, অলীকুল শিরোমণি ও কাদেরিয়া তরিকার প্রতিষ্ঠাতা হজরত বড়পীর শেখ আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লহি আলাইহি উনার বরকতময় ওফাত দিবস স্মরণে ‘পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম’ অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পালিত হয়। আজ রাতেই যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও গভীর ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হতে যাচ্ছে পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম।
মূলতঃ যেসকল ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় তাৎপর্যের কারণে এবং যেসব উদ্দেশ্যে দিবসটি পালিত হয়:
১. ঈসালে সাওয়াব ও রুহের মাগফিরাত কামনা
এই বরকতময় রজনী পালনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো বিশ্ববরণ্যে এই অলীর রূহের মাগফিরাত ও সাওয়াব পৌঁছানোর (ঈসালে সাওয়াব) উদ্দেশ্যে জিকির-আজকার, মিলাদ-মাহফিল ও ফাতেহা পাঠ করা। এ উপলক্ষে রাতভর পবিত্র কোরআন তিলওয়াত, নফল নামাজ, দরুদ শরীফ পাঠ এবং অসহায়দের মাঝে খাদ্য বিতরণ ও দান-ছদকা করা হয়।
২. জীবন ও আদর্শ থেকে শিক্ষা গ্রহণ
বড়পীর হজরত আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লহি আলাইহি ৪৭১ হিজরিতে (১০৭৭ খ্রিষ্টাব্দ) ইরানের জিলান নগরে জন্মগ্রহণ করেন এবং উচ্চশিক্ষার জন্য বাগদাদ গমন করে শরীয়ত ও তরীকতের সর্বোচ্চ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। উনার সম্পূর্ণ জীবন ছিল শতভাগ পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ-ভিত্তিক। এই দিনে উনার মহামূল্যবান বাণী, জ্ঞান এবং দ্বীন প্রচারের কঠোর সংগ্রামকে স্মরণ করে মুমিন হৃদয়কে পুনরুজ্জীবিত করা হয় এবং সুন্নাহর অনুসরণে জীবন গড়ার শিক্ষা নেওয়া হয়।
৩. সত্যবাদিতা, আমানতদারি ও তাকওয়ার চর্চা
শৈশবে বাগদাদ যাত্রাপথে ডাকাতদের মুখোমুখি হয়ে মায়ের দেওয়া নসিহত অনুযায়ী জীবনের ঝুঁকি নিয়েও সত্য কথা বলার ঘটনা উনার সত্যবাদিতার এক কালজয়ী দৃষ্টান্ত। উনার সেই সত্যবাদিতায় পুরো ডাকাত দল তওবা করে হেদায়েতের পথ পেয়েছিল। ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের বিশেষ আয়োজনগুলো থেকে মুমিনরা সত্যবাদিতা, আমানতদারি, আত্মসংযম ও তাকওয়ার পরম শিক্ষা গ্রহণ করে।
৪. আত্মশুদ্ধি ও দ্বীনের দাওয়াত
পরবর্তী জীবনে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে আত্মশুদ্ধি, মানবসেবা ও মহান দ্বীনের দাওয়াতে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। উনার সুমধুর উপদেশ, সুন্নাহর পূর্ণ অনুসরণ ও মহান নৈতিকতার প্রভাবে অগণিত পথহারা মানুষ সত্য ও তওবার পথে ফিরে আসেন। ৫৬১ হিজরির (১১৬৬ খ্রিষ্টাব্দ) ১১ রবিউস সানি এই মহান সাধকের ওফাতের পর থেকে উম্মাহ উনার আদর্শ চর্চায় এ দিনটি স্মরণ করে আসছে।
সমাজে এর শিক্ষা ও প্রভাব:
ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম কেবল একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি চরিত্র গঠন, আত্মশুদ্ধি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পথহারা মানুষকে ঈমানের আলোয় ফিরিয়ে আনার বার্তা দেয়। বর্তমান সমাজে যখন নৈতিক অবক্ষয় বেড়েছে, তখন গাউসুল আজম রহমাতুল্লহি আলাইহি উনার সত্যবাদিতা, ধৈর্য, খোদাভীতি ও সৃষ্টির সেবার আদর্শ অনুসরণ করাই হতে পারে মুক্তির পথ।
পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম স্মরণের মাধ্যমে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সকলকে বড়পীর হজরত শেখ আবদুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লহি আলাইহি উনার আদর্শ নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।