হক্বের দা'ওয়াত সিদ্দীক্বিয়া দরবার

সন্ত্রাস-জঙ্গীপনা বিরোধী সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক পীর মুরিদী সুন্নতী দরবার

মুর্শিদ ক্বিবলা উনার পক্ষ থেকে অসিয়তনামা

Muhammad Mamunur Rashid
calendar_month September 16, 2026 schedule 5 মিনিটের পঠন visibility 339 জন পাঠক
ফন্ট সাইজ:

১. আমলে কখনো অলসতা করবেন না।
২. বড়দের, মুরব্বীদের, হক্বানী অলী ও আলেমদের, মা-বাবার সম্মান ও মুহাব্বত অন্তরে রাখবেন। এক পীরের মুরিদ হয়ে অন্য কোন “হক্ব পীরের দুশমনী করলে মহান আল্লাহ্ পাক তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবেন।” (বুখারী ২/৯৬৩ পৃ:, ৬৫০২ নং হাদীস)
৩. কারো সাথে অতি রাগ করবেন না। বিশেষ করে নিজের অধীনস্ত পরিবার-পরিজন, সন্তানাদির সাথে।
৪. কারো সাথে দূর্ব্যবহার করবেন না। মারা-মারি, গাল-মন্দ ইত্যাদি ফাসাদ থেকে দূরে থাকবেন। নম্র ভাষায় সত্যের দা’ওয়াত দিবেন। মেমোরীর একটি ওয়াজ পার করে দিয়ে হলেও সত্যের দাওয়াত দিবেন।
৫. কেউ আন্তরিকভাবে দাওয়াত দিলে তা হালাল হলে ফিরিয়ে দিবেন না।
৬. জানাজার নামাযে শরিক হবেন।
৭. কোন রোগীর খোঁজ পেলে তাকে দেখতে যাওয়া বা সেবা করবেন।
৮. প্রতিবেশীর হক্ব আদায় করবেন। ভাল ব্যবহার করে সত্যের দা’ওয়াত দিবেন।
৯. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবেন ও তাদের সত্যের দা’ওয়াত দেবেন।
১০. মা-বাবা বেঁচে থাকলে তাদের সেবা করবেন, তারা ইন্তেকাল করে থাকলে জিয়ারত ও দান-হাদিয়া করে তাদের জন্য বেশী বেশী দু’আ করবেন।
১১. হালাল রুজি কামাই করা স্ত্রী—সন্তান, মা—বাবা, শশুর—শাশুড়ীর হক্ব আদায় করা ফরয ও সুন্নত হিসাবে এক শত শহীদের মর্যাদা।
১২. প্রত্যেক নামাজের পর—لَا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ الْمَلِكُ الْحَقُّ الْمُبِيْنٌ
(আগে-পিছে দরূদ শরীফ পড়ে) সাতবার করে পড়বেন। মৃত্যু পর্যন্ত সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মহান আল্লাহ পাক ভাল রাখবেন ইনশা-আল্লাহ্ (তারগীব)। অন্যান্য আমলের জন্য ফতওয়ায়ে আশরাফ সিদ্দীকী, সনদসহ হাজার হাজার দলীলসমৃদ্ধ ১২ চাঁদের ২৪ ঘন্টার সুন্নতী আমল ও দোয়ার ভান্ডার কিতাবের সূচীপত্র পড়লেই পেয়ে যাবেন- ইনশা-আল্লাহ্ ।
১৩. সম্ভব হলে রমাদ্বনের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করবেন।
১৪. হজ্ব ফরয হয়ে থাকলে তা দ্রুত আদায় করা হজ্ব ফরয না হলে হজ্বের ইরাদা করা। এজন্য দু’আ করা এবং অর্থ সংগ্রহে আন্তরিক হওয়া। হজ্বে বা ওমরা গমন কারীকে সাধ্যানুযায়ী হাদিয়া দিবেন।
১৫. যাকাত ফরয হয়ে থাকলে কোনো হক্বানী অলী বা আলেম দিয়ে হিসাব করিয়ে আদায় করবেন এবং ফসলের ওশর আদায় করবেন ২০ ভাগের ১ ভাগ। বিনা খরচে শস্য হলে ১০ ভাগের ১ ভাগ বাত্বিল পথে না দিয়ে হক্ব পথে দান করবেন নচেৎ এই সম্পদ কিয়ামতে তাকে সাপের আকারে দংশন করতে থাকবে এবং বলবে, আমিই তোমার সম্পদ।” (সহীহ্ বুখারী-১৪০৩ নং হাদীস শরীফ)
১৬. রমাদ্বনের ফরয রোজা আদায় করবেন। রমাদ্বনের কোন রোযা কাযা হলে বা মান্নতের রোযা থাকলে তা আদায় করবেন।
১৭. প্রতি মাসে আমলের অবস্থা মুর্শিদ ক্বিবলা কে চিঠি-পত্রের মাধ্যমে বা সরাসরি জুমআ নামাজে সোহবতে এসে অবহিত করা ও প্রতি ৪১ দিন পরপর সবক পাল্টিয়ে নিবেন।
১৮. প্রতি আরবি মাসের ১৩,১৪ ও ১৫ তারিখে রোযা রাখতে চেষ্টা করলে সাড়া বছর রোযা রাখার ছওয়াব পাবেন।
১৯. জুমার দিন আসর নামাজের পর বেশী-বেশী দরূদ শরীফ পাঠ করা এবং মাগরিবের আগেই মসজিদে প্রবেশ করে দু’আয় লিপ্ত হবেন।
২০. দিনে রাতে ৭ বার করে সূরা ফালাক্ব ও সূরা নাছ পাঠ করে শরীরে ফুঁ দিলে সকল জাদু টোনা থেকে মহান আল্লাহ্ পাক রক্ষা করবেন এবং যার যাদু তার দিকেই ফিরে যাবে।
২১. মাঝে মাঝে কবর জিয়ারত করা, বিশেষ করে জুমার দিন যা সুন্নত হিসেবে একশত শহীদের মর্যাদা।
২২. প্রতি সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখতে চেষ্টা করলে সপ্তাহে কমপক্ষে ২০ টি রোযা রাখার ছওয়াব পাবেন এবং শাওয়ালের ৬ টি রোযা রাখলে সাড়া বৎসর রোযা রাখার ছওয়াব পাবেন ইনশা—আল্লাহ্।
২৩. সম্ভব হলে প্রতিদিন না হলে সপ্তাহে একদিন না হলে মাসে একদিন না হলে বছরে একদিন না হলে জীবনে একবার হলেও (জুমআ’র দিন হলে ভাল হয়) ‘সলাতুত তাসবীহ’ আদায় করলে ক্বলব্ নরম হবে ও সকল গুনাহ মাফ হবে ইনশা-আল্লাহ্।
২৪. জুমআ’র দিন নখ, অবাঞ্চিত লোম ইত্যাদি পরিষ্কার করা এবং উত্তমরুপে গোসল করে দ্রুত সময়মত মসজিদে যাবেন।
২৫. জুমআ’র দিন সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করা। ইহাতে সকল শত্রুর শত্রুতা ও বিপদাপদ হতে আল্লাহ্ পাক রক্ষা করবেন এবং আল্লাহ্ পাক শত্রুদের সমুচিত বিচার করবেন।
২৬. রাতে ঘুমানোর পূর্বে সামান্য সময় আত্মসমালোচনা করবেন। গুনাহ থাক বা না থাক তাওবা করবেন। উল্লেখিত আমলসমূহ যদি সব গুলো করা সম্ভব হয় তবে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া করবেন। আর সব আদায় না হলে আগামী দিনের জন্য তাওফিক কামনা করবেন ও প্রচেষ্টা করবেন।
২৭. ইশার নামাযের পর দেরি না করে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে যাওয়া, যাতে করে তাহাজ্জুদের সৌভাগ্য অর্জিত হয়। সাড়ে এগারোটার পরে ঘুমালে তাহাজ্জুদ আদায় করে ফজর আদায়ের প্রচেষ্টায় আল্লাহর নিকট দু’আ ও নিয়ত করে প্রয়োজনে এলার্ম দিয়ে ঘুমাবেন।
২৮. মাগরিবের নামাযের পর ‘৬ রাকাত আওয়াবিনের নামায’ আদায় করলে বারো বছরের ইবাদতের ছওয়াব ও গুণাহ্ মাফ হয়।
২৯. সারাদিন সব সময় শ্বাস-প্রশ্বাসে ‘আল্লাহু—আল্লাহ’ যিকির করতে থাকলে আল্লাহর গইবি মদদ হবে এবং মৃত্যুর সময় ঈমান নছীব হবে।
৩০. প্রতিদিন কিছু না কিছু দান করা বা কাউকে কিছু হাদিয়া দেওয়া বা খাওয়ানো। ফকির যে রকমই হোক না কেন তাকে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
৩১. প্রতিদিন ফতওয়ায়ে আশরাফ সিদ্দীকী বা আমার যেকোন কিতাবের যেকোন অংশ একবার হলেও পাঠ করলে এবং আমার ওয়াজ শুনতে শুনতে ঘুমালে আমার সোহবতের সওয়াব পাবেন এবং আমাকে ও নবীজি পাক (ﷺ) উনাকে স্বপ্নে দেখা মিলবে ইনশা-আল্লাহ্ ।
৩২. প্রতিদিন সুবিধা মত সময়ে পবিত্র কুরআন শরীফের কিছু অংশ পাঠ করবেন।
৩৩. প্রতিদিন সুবিধা মত সময়ে হাদীস শরীফ থেকে কিছু হাদীস শরীফ পাঠ করবেন।
৩৪. সব সময় অযু অবস্থায় থাকতে চেষ্টা করলে কোন দুর্ঘটনায় পতিত হবেন না ও ঈমান রক্ষা পাবে।
৩৫. প্রতিদিন তাহাজ্জুদ, ইশরাক, চাশত, যাওয়াল ও আওয়াবীন নামায পড়তে চেষ্টা করলে সুন্নত হিসেবে পাঁচশত শহীদের মর্যাদা পাবেন।
৩৬. রমাদ্বন মাস ব্যতীত ফজরের নামাজের পর ঘুমানো উচিত নয়। প্রয়োজন হলে ইশরাক ওয়াক্তের পর ঘুমানো। বেলা উঠা পর্যন্ত দরূদ শরীফ ও আল্লাহর যিকিরে মশগুল থাকলে সৌভাগ্য অর্জিত হবে।
৩৭. খতম দেওয়ার নিয়তে প্রতিদিন কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা। সর্বনিম্ন ৩০ দিন সর্বোচ্চ ৪০ দিনের মধ্যে ১ খতম কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করতে চেষ্টা করবেন।
৩৮. ফজরের নামাযের পর প্রতিদিন সূরা ইয়াসিন শরীফ পাঠ করলে সকল বিপদাপদ থেকে মহান আল্লাহ পাক হেফাযত করবেন।
৩৯. প্রত্যেক ফরয নামাযের পর একবার আয়াতুল কুরসি এবং ৩৩ বার ‘সুবহানাল্লাহ্’ ৩৩ বার ‘আলহামদুলিল্লাহ্’ ও ৩৪ বার ‘আল্লাহু আকবার’ পাঠ করলে মৃত্যু কষ্ট লাঘব হবে ও প্রতিদিন চার হাজার দিনার স্বর্ণ মূদ্রা দান করার ছওয়াব পাবেন।
৪০. ফরয নামাযের পূর্বে ও পরের সুন্নত ও নফল আদায় করবেন।
৪১. দৈনন্দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামায মসজিদে গিয়ে হক্ব ইমামের পিছনে খুশু—খুযুর সাথে আদায় করার চেষ্টা করবেন। বাসায় হলেও আপনজনকে নিয়ে জামাআতের সহিত ফরজ নামাজ আদায় করবেন।
৪২. সকল কাজ সুন্নত মতো করা এবং সকল বিদ’আত, হারাম ও কুফরী পরিহার করা ও কাফের মুশরিক এবং বাতিল ফেরকাহ্ থেকে দূরে থাকার যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন।
৪৩. প্রতিদিন সকাল এবং রাতে কমের পক্ষে ১০০ বার করে ২০০ বার বা যত বেশী পারা যায় দরূদ শরীফ ও আস্তাগফিরুল্লাহ্ পাঠ করবেন। ইশা ও ফজরের পর নামাযের পরে যে ব্যক্তি
اَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِىْ لَا اِلٰهَ اِلَّا هُوَالْحَىُّ الْقَيُّوْمُ وَاَتُوْبُ اِلَيْهِ.
আগে—পিছে দরূদ শরীফ সহ ৩ বার পাঠ করবে তার সমুদ্রে্রর ফেনা রাশির মত গুনাহ্ থাকলেও মহান আল্লাহ পাক তা মাফ করে দিবেন। (সিহাহ সিত্তাহ্ সহ অসংখ্য হাদীস শরীফ) আর দরূদ শরীফের বিনিময়ে মৃত্যুর পূর্বেই নবীজী পাক ﷺ উনার স্বপ্নে জিয়ারত হবে— ইনশা—আল্লাহ্ ।
৪৪. পরিবারের সদস্যগণকে নিয়ে (হলেও) প্রতিদিন রাতে একবার হলেও দরূদ-সালাম তথা মিলাদ-ক্বিয়াম পাঠ করলে সদা সর্বদা রহমত শান্তি ও বরকত নাযিল হবে। আজাব, গজব ও শয়তানের ধোঁকা থেকে রক্ষা পাবেন।
৪৫. সদা সর্বদা সুন্নতের নিয়মে চলার চেষ্টা করতে হবে।
৪৬. অধীনস্ত মেয়েদেরকে শান্তি ও হেকমতের সাথে পর্দায় রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে। নিজেও পরনারীর সংশ্রব ত্যাগ করবেন।
৪৭. হিংসা, বিদ্বেষ, অহংকার, লোভ, বেআদবী, জুলুম, মিথ্যা, ছলচাতুরী, চুরি, ডাকাতি, খুন, দেশ-জাতি-ইসলামের ক্ষতি, প্রাণীর ছবি, ভিডিও, টিভি, গান, বাজনা, সুদ-ঘুষ, জমি কট কবলা নেওয়া, জেনা, জঙ্গীপনা, হিরোইন, মদ, জুয়া, বিড়ি, সিগারেট, গুল, তামাক, জর্দাসহ যাবতীয় নেশাদ্রব্য, চুল-দাঁড়িতে কলপ লাগানো ও বেপর্দাসহ সকল হারাম কাজ থেকে মুক্ত থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে। তবেই আল্লাহ্ পাক অলী হিসেবে কবুল করবেন।
৪৮. ফজরের সুন্নতের পরে ৪১ বার সূরা ফাতেহা পাঠ করতে পারলে মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের কষ্ট হতে মহান আল্লাহ্ পাক তাকে হেফাজত করবেন। মধু, কালোজিরা ও খেজুর প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় রাখলে মৃত্যুরোগ ছাড়া সকল রোগ থেকে আল্লাহ্ পাক হেফাজত করবেন। (বুখারী শরীফ সহ অসংখ্য সহীহ্্ হাদীস শরীফ)
৪৯. ফজর ও মাগরিবের পর সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পাঠ করতে পারলে ৭০ হাজার ফেরেশতা দিন রাত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ও দু’আ করবেন।
৫০. বর্তমান সময়ে ঈমান বাঁচিয়ে রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে গেছে। আশরাফুল মাখলুক্বাত, খতামুন নাবিয়্যীন হুযুর পাক ﷺ নূরনবী, হায়াতুন্নবী, শেষ নবী ও উনার পর আর কোনো নবী আসবেন না। এটার উপর ঈমান কায়েম রাখবেন। কালেমা তাইয়্যেবা : ﷺ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ বাংলা উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লহ্ ﷺ। অর্থাৎ আল্লাহ্ ব্যতীত কোনোই মাবুদ নেই। হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা ﷺ আল্লাহর রসূল। কালেমা শাহাদত: أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ﷺ বাংলা উচ্চারণ: আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লহু ওয়াহ্দাহু— লা— শারীকালাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আ’ব্দুহু ওয়া—রসুলুহু ﷺ। অর্থাৎ, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ্ ব্যতীত কেউ মাবুদ নেই। তিনি অদ্বিতীয় অংশীবিহীন, আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা ﷺ আল্লাহর বান্দা ও রসূল ﷺ। এটার উপর ঈমান কায়েম রাখবেন। এর বিপরীত কোনো কিছুর উপর বিশ্বাস স্থাপন করবেন না। যদি কেউ উক্ত কালেমা সমূহ পরিবর্তন করে, সে বেঈমান ও কাফের হয়ে যাবে।
৫১. জীবিত কি মৃত পীরের সুরাত হাজির—নাজির জানা হারাম, যারা করে তাদের ঈমান চলে যেতে পারে।
৫২. পুত্র—কন্যাদেরকে দ্বীনি এলেম শিক্ষা দিবেন, তার সঙ্গে দুনিয়ার যাবতীয় বৈধ হুনুর— হেকমত (শিল্প ও ভাষা), আরবি, ইংরেজী, বাংলা ইত্যাদি শিক্ষা দিবেন, কোনো ভাষাই শিক্ষা করা নাজায়েজ নয়। যাতে সর্ব সাধারণ শিক্ষিত হতে পারে। তজ্জন্য দেশ—বিদেশে প্রত্যেক জেলায়, থানায় ও গ্রামে একটি হক্বের দা’ওয়াত সিদ্দীক্বিয়া সুন্নতী মসজিদ, দরবার, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করার আপ্রাণ প্রচেষ্টা আমার মুরিদদেরকে করতে হবে যাতে পবিত্র কুরআন শরীফ তাজবিদ অনুযায়ী পড়তে পারে, তার সুব্যবস্থা করে দিবেন।
৫৩. স্ত্রী, কন্যা, মা, ভগ্নিদেরকে তথা অধিনস্থ মহিলাদেরকে পর্দায় রাখবেন। কন্যাদেরকে শিক্ষাদান কালেও পর্দায় রাখবেন। স্ত্রী শিক্ষয়িত্রী বা মাহরাম ব্যক্তি দ্বারা শিক্ষা দিবেন। যারা স্ত্রী, কন্যা, মা ও ভগ্নীকে বেপর্দায় রাখবেন, তারা দাইয়্যুস হয়ে জাহান্নামে যাবে। পর্দা করা ফরজে আইন। এর প্রতি যারা ঘৃণা করবে তারা বেঈমান। তাদের মতের উপর ধিক্কার দিবেন। নিজের পরনারী থেকে হেফাজত থাকবেন।
৫৪. মেয়ের সাচকের (যৌতুক) টাকা খাবেন না। যে ব্যক্তি খাবে ও তাদ্বারা জেয়াফত করবে, তা হারাম। আমার খলিফাদের মধ্যে যদি কেউ যৌতুক বা সুদখায় অথবা বাত্বিল ফিরক্বার সাথে মিল হয়ে সত্য পথ থেকে সরে যায় তার নিকট কেউ মুরিদ হবেন না। এইরূপ ব্যক্তি আমার খলিফা হোক অথবা অন্য কোনো পীরের খলিফা হোক, তাদের নিকট মুরীদ হওয়া যায়েজ নেই।
৫৫. ভাই—ভগ্নী ও অংশীদারগণের অংশ ফারায়েজ অনুযায়ী ভাগ করে দিবেন। যদি তাদেরকে দেওয়া অসম্ভব হয়, তবে উহার মূল্য দিয়ে হোক বা যেকোনো ভাবে হোক সন্তুষ্ট করে দাবী ছাড়িয়ে নিবেন। নাহলে আল্লাহ্ পাক উনার নিকট দায়ী থাকবেন। টাকার হোক, কথার হোক, দাবীদারের নিকট মাফ চেয়ে নিবেন। যদি দাবীদার মৃত্যুপ্রাপ্ত হয়ে থাকে, তবে টাকা—পয়সা তার ওয়ারিশগণকে দিবেন। তার নামে দান, হাদিয়া, কুরআন শরীফ তিলাওয়াত, দরূদ-সালাম ও নামাজ পড়ে সেই মৃত ব্যক্তির রূহের উপর সওয়াব রেসানী করবেন। আল্লাহ্ পাক উনার নিকট ক্ষমা চাইবেন।
প্রথম বিবাহ ও দ্বিতীয় বিবাহের পুত্র কন্যাদের অংশের মধ্যে ফারায়েজ অপেক্ষা কম বেশী করে দিলে আল্লাহ্ পাক উনার কাছে দায়ী থাকবেন।
৫৬. আমি যে হানাফী মাযহাব ভিত্তিক ক্বাদেরীয়া, চিশতিয়া, নকশবন্দীয়া ও মুজাদ্দিদীয়া ত্বরীকা সম্বন্ধে সবক ও তালিম দিয়ে থাকি ও দিয়েছি, সেই মোতাবেক সকলে কায়েম থাকবেন। উহা হযরত পীরানে পীর শাহ আব্দুল কাদির জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার ও হযরত শাহ্ অলিউল্লাহ্ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাদের কিতাব অনুযায়ী করেছি (কুরআন-সুন্নাহর ভিত্তিতে)।
৫৭. আমার খলিফা ও মুরিদদের মধ্যে যদি কেউ কুরআন, হাদীস ও ফেকাহ্ সমূহের বিপরীত অর্থাৎ শরীয়তের বিপরীত কোনো মত প্রকাশ করে, তবে তা কেউ মানবেন না। যদি কেউ আমার খলিফা ও মুরীদ দাবী করে আমার অসিয়তের বিপরীতে চলে, তবে কেউ তাকে আমার মুরীদ বা খলিফা মনে করবেন না ও তার নিকট মুরীদ হবেন না। তাকে ধোঁকাবাজ হিসেবে ত্যাগ করবেন।
৫৮. হিন্দুর পুজা-পার্বনে, মেলা, তিহারে ও গান বাজনা স্থানে সাহায্য করবেন না ও সেখানে যাবেন না। পূজার পাঁঠা, কলা, ইক্ষু, দুধ ইত্যাদি পুজা উপলক্ষ্যে বিক্রয় করবেন না।
৫৯. কেউ প্রকাশ্য ফাসেকের দাওয়াত কবুল করবেন না এবং তাকে দা’ওয়াত করে খাওয়াবেন না। যথা- অলী ও নবীর দুশমন, যৌতুক, সুদ, ঘুষখোর ও বেনামাজি। কেননা প্রত্যহ্ বেতরের নামাজে আল্লাহর কাছে ওয়াদা করে পড়া হয়, ‘নাতরুকু মাইয়্যাফ জুরুকা’ অর্থাৎ আমরা ফাসেক ফাজেরের সাথে চলবো না।
৬০. কেউ দাঁড়ি মুন্ডন ক্লীন সেভ করবেন না, এবং এক মুষ্টির কম হয়, এমন খাটো করবেন না। লম্বা মোচ রাখবেন না। ফ্রান্সকাট, টেরি, বা রোকাইয়াঁটি ছাটবেন না, কাছা দিয়ে তথা হাঁটুর উপরে কাপড় তুলে ফরজ তরক করে কাপড় পরবেন না। কোট, প্যান্ট, নেকটাই ইত্যাদি বিজাতীয় পোশাক ব্যবহার করবেন না সুন্নাত মোতাবেক পোশাক নিবেন ও খালি মাথায় চলবেন না। সুন্নতী টুপি, পাগড়ী, লুঙ্গি, পাজামা ও লম্বা কোনাবন্ধ সুন্নতী কোর্তা ব্যবহার করবেন। সুন্নতী জুব্বা ইত্যাদি পোশাকের উপরে ব্যবহার করাও সুন্নত। বড়ই পরিতাপের বিষয় ইহুদী-নাসারা, হিন্দু ও অন্যান্য গায়ের কওম তাদের জাতীয় পোশাক ধূতি, শার্ট-প্যান্ট পরিচ্ছদ ইত্যাদি সুন্দর না হলেও তারা ত্যাগ করে না। আর মুসলিম দাবী করেও সুন্নতী টুপি, জামা, পাগড়ী ইত্যাদি তো পড়েই না বরং দুশমনী করে ঈমানহারা হয়। নাউযুবিল্লাহ্।
৬১. তাস, পাশা, ফুটবল, ব্যাটবল ইত্যাদি এবং ঘোড়—দৌড়, মহিষ ও গরুর লড়াই বা কোন প্রাণী লড়াই খেলার নিয়তে দিবেন না ও করবেন না। যদি কোথাও ঐরূপ লড়াই হয়, সেখানে যাবেন না। কারণ কুরআন-সুন্নাহর ভাষায় সকল খেলাই হারাম। আত্মরক্ষার জন্য ঘোড় দৌড়, লাঠিখেলা শিক্ষা, তলোয়ার তাঁজা, তীরন্দাজী শিক্ষা মাসের মধ্যে ২/৩ দিন তালিমের জন্য জায়েয হবে কিন্তু হাঁটুর নীচে পর্যন্ত পাজামা পরবেন, নামাজের ওয়াক্তে নামাজ পড়বেন, ঐ শিক্ষাকালে বাজী ও বাজনা না রেখে শিক্ষা করা জায়েয আছে। কিন্তু ঈদ, বকরাইদ, শবে বরাত, মুহাররম ইত্যাদিতে করবেন না। করলে ইবাদতের ক্ষতি হবে।
৬২. ঈদে ও বিবাহে বারুদ পোড়ান, ফটকাবাজী, লাঠিখেলা, প্রাণীর ছবি, ভিডিও, প্রজেক্টর, পরনারী-পুরুষ বেপর্দা, কলের গান, সুর দিয়ে পুঁথিপড়া ইত্যাদি কাজ করবেন না। ফজুল ভাবে অর্থ ব্যয় করবেন না, ইহা হারাম।
৬৩. যথাশক্তি ব্যবসা-বাণিজ্য কৃষি ও শিল্প কাজ ইত্যাদি অবলম্বন করে হালাল উপার্জন করবেন। দান-খয়রাত গ্রহণ করার উপর নির্ভর করবেন না, শক্তি থাকা সত্ত্বেও অন্যের দান-খয়রাত চেয়ে নেওয়া হারাম। আলেমের এলেম, পীরের পীরত্ব যেন দান-খয়রাত পাওয়ার উদ্দেশ্যে না হয়। আল্লাহ্ পাক উনার সন্তুষ্টি হাসিল নিজে করবেন অন্যকেও করানোর চেষ্টা করবেন। তবে ইচ্ছা করে কেউ হাদিয়া দিলে সুন্নত হিসেবেই উভয়েই ১০০ শহীদের মর্যাদা পাবেন।
৬৪. যদি কোন হক্বানী আলেমের বিরুদ্ধে তার নামে কোনোরূপ কিতাবের খেলাফ বিজ্ঞাপনে বা বাজে লোকের মুখে অথবা ফেসবুক-ইউটিউবে দেখতে বা শুনতে পান, তবে যতক্ষণ নিজে তার লিখিত মত বলে কিংবা তার মৌখিক কথা বলে নিশ্চিতভাবে জানতে না পারেন, ততক্ষণ তার উপর কোন প্রকার এস্তেহার ও ফতওয়া প্রকাশ করবেন না। অনেক স্থানে অনেক বাজে লোকের কথায় বিশ্বাস করে ভালো লোকের উপর ফতওয়া ও এস্তেহার প্রকাশ করে বহুসংখ্যক ঈমানদার মুসলমানদের ঈমান বিনষ্ট করে মহা গুনাহগার হয়েছে ও হচ্ছে। হক্বানী আলেম ও পীর সাহেবগণ সাবধান থাকবেন, শয়তান জীবিত আছে। সে পীরে পীরে ও আলেমে আলেমে বিবাদ ও দলাদলি লাগিয়ে ইসলামকে বিনষ্ট করতে চেষ্টা করে। মহান আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে হেদায়েত সুরক্ষা করুন।
৬৫. মাথায় এরূপ লম্বা চুল রাখবেন না যে তা মেয়েলোকের ন্যায় হয়, বাবরী সুন্নত তিন প্রকার— লিম্মা (কানের লতি বরাবর), যিম্মা (কানের লতি ও ঘাড়ের মাঝখানে), ওফরা (ঘাড় বরাবর) মোতাবেক রাখতে পারে, বাজে নাদান ফকিরেরা লম্বা চুল রাখে। উহা হারাম।
বাবরী রাখতে হলে স্কন্ধ পর্যন্ত ঘাড়ে পড়লেই চুল কেটে কানের লতি বরাবর খাটো করে রাখবে, মহড়ার (ঘাড়) নীচে যেন না পড়ে। মহড়ার নীচে চুল লম্বা হলে স্ত্রী লোকের ন্যায় হয়, উহা হারাম। উহার প্রতি আল্লাহ পাকের লানত পতিত হবে।
৬৬. সওয়াব রেসানী করে কেউ সওয়াল করে নিবেন না, উহা হারাম। যদি কেউ আল্লাহর ওয়াস্তে মৃতের খতম পড়ে, আর পড়ানেওয়ালা লিল্লাহ কিছু দেয়, এক্ষেত্রে নেওয়া বা দেওয়া জায়েয আছে। বর্তমানে যামানায় কুরআন শরীফ ও হাদীস শরীফ শিক্ষা দিয়ে, ওয়াজ-নসিহত করে, আজান দিয়ে ও ইমামতি করে খতম তারাবীহ্ পড়ে, ঝাড়-ফুঁক দিয়ে হাদিয়া নেওয়া জায়েয আছে। (সকল ফতওয়ার কিতাব)
৬৭. ওয়াজ-নসিহত আল্লাহর ওয়াস্তে করবেন। কিছু লিল্লাহ্ মসজিদ—মাদ্রাসার কাজের জন্য, নেওয়া জায়েয আছে। বাজে স্থানে লোকের ভালোমন্দ, সুদখোর, ঘুষখোর ইত্যাদির চাঁদা জমা করে ওয়াজকারিদেরকে দেয়, উহা নাজায়েয। হালাল মাল দিয়ে দিলে নিতে কোনো দোষ নেই।
৬৮. অনেক স্থানে দেখা যায়, পীরের ছেলে, জামাই, নাতি-পুতি কিছু জানুক বা না জানুক পীর সেজে বসে ও মুরীদ করতে থাকে। অন্য কোনো হক্বানী পীরের নিকট সাধারণকে যেতে নিষেধ করে। নিজের ঈমান হারায় এবং সাধারণ মানুষের ঈমান নষ্ট করে। অতএব আমার পুত্র, জামাই, নাতি-পুতি সবাই হক্বের উপরে থাকলে সবাই মিলে দরবার চালাবেন। যারা হক্বের উপরে থাকবেন না তারা আমার দরবারের কোনো দায়িত্ব বংশ পরম্পরায় কিয়ামত পর্যন্ত পাবেন না। এই দরবারের কোনো অংশ কিয়ামত পর্যন্ত কোনো ওয়ারিশ বিক্রি করতে পারবেন না। দরবার শরীফের আয়, ব্যয়ের অর্থ ফারায়েজ সূত্রে সবাই ব্যয়ও করবে আয়ের অংশও পাবে। যে ব্যয়ের দায়িত্ব নিবেন না সে কোনো আয়ের অংশ নিতে পারবেন না। ওয়ারিশদের মধ্যে যারা শরীয়ত মোতাবেক আমল করবেন ও চলবেন এবং তালিম ও শিক্ষা দিবেন তাদের অনুসরণ করবেন। তারাই বংশ পরম্পরায় কিয়ামত পর্যন্ত হক্বের দা’ওয়াতের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, নচেৎ নয়।
৬৯. আমাদের বাৎসরিক অনুষ্ঠান ৯ই মুহররম দিনগত রাত আশুরা, ১১ই রবিউল আউয়াল দিনে সুন্নতী দাওয়াতী র‌্যালী ও রাতে পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ﷺ , ২৬শে রজব দিনগত রাত শবে মেরাজ, ১৪ই শা’বান দিনগত রাত শবে বরাত, ২৬শে রমাদ্বন দিনগত রাত শবে ক্বদর, ৮ই যিলহজ¦ দিনগত রাত-আরাফা এগুলো অনুষ্ঠানে সারারাত জাগরণের ব্যবস্থা করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানগুলোতে আমার সকল ভক্ত-মুরিদগণ দরবার শরীফে অর্থ, সময়, শ্রম ও খেদমত দিয়ে অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করলে কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ্ পাক ও নবীজি পাক ﷺ এবং আমার সন্তুষ্টি হাসিল করে আশা করি জান্নাত পাবেন ইনশা-আল্লাহ্।
৭০. এমন (স্থানে) জলি যিকির করবেন না যাতে নিদ্রিত ব্যক্তির নিদ্রা ভঙ্গ হয়, কুরআন শরীফ ও নামাজ পড়ায় বিঘ্ন ঘটে।
৭১. হানাফী, মালেকী, হাম্বলী, শাফেয়ী এই চার মাযহাবের কোনো মাযহাবকে ইহানত করবেন না। আমি হানাফী, আমার মুরীদগণও হানাফী। শিয়া, কাদিয়ানী, রাফিজী, খারিজী, ওহাবী, বাহাই ইত্যাদিদের আক্বিদা বাত্বিল ফেরক্বাহ্। অতএব এই চার মাযহাবকে যে ইহানত (অবজ্ঞা) বিরোধীতা করবে, সে কাফের, বেঈমান ও বাত্বিল ফিরক্বাহ্ বলে গণ্য হবে।
৭২. দাঁড়ি রাখা, সুন্নতী লম্বা কোর্তা পরা ইত্যাদি সুন্নত লেবাসকে যারা অবজ্ঞা করবে, তারা বেঈমান হবে, যেহেতু নবীজি পাক (ﷺ) উনার সুন্নতকে অবজ্ঞা করায় নবীজি পাক (ﷺ) উনাকে অবজ্ঞা করা হয়। নবীজি পাক (ﷺ) উনাকে যে অবজ্ঞা করে সে কাফের হবে। إِهَانَةُ السُّنَّةِ كُفْرٌ অর্থ: সুন্নতকে অবজ্ঞা করা কুফরী। (আকাঈদে নাসাফী)
৭৩. কামেল পীরের নিকট মুরীদ হলে, পীর যদি ইন্তেকাল করে, বেশরা কুরআন—সুন্নাহর ভিত্তিতে না চলে তাহলে তাকে বাদ দিয়ে অন্য একজন কামিল পীর ধরতে হবে। অথবা দূর দেশবাসী হয়, আর তার নিকট যেতে অক্ষম হয়, তবে তার পাশাপাশি অন্য কামেল পীর দেখে মুরীদ হয়ে তালিম নিতে পারবেন। বিনা কারণে হক্বানী পীর পাল্টানো যাবেনা।
৭৪. আমি হক্বানী আলেম, অলী ও শিক্ষিত লোকদেরকে মুহব্বত ও তাজিম করে থাকি। আপনারাও তাজিম ও মুহব্বত করবেন। যে আলেম ও সাধারণ লোক শরীয়ত মোতাবেক চলেন, তাদেরকে কেউ তুচ্ছ জানলে আল্লাহ পাক ও নবীজি পাক (ﷺ) অসন্তুষ্ট হবেন, যেহেতু হক্বানী আলেমগণ নবীগণের ওয়ারিশ।
৭৫. সকলে ঢিলা-কুলুখ ব্যবহার করবেন। স্ত্রী, কন্যা ও পরিজনদেরকে কুলুখ ইত্যাদি আমল করাতে চেষ্টা করবেন। যেহেতু কুলুখ ব্যবহার করা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ্ (সুন্নতে আইন)।
৭৬. আমার খলিফা ও মুরিদগণের মধ্যে হাজার হাজার আলেম, হাফেজ, ক্বারী আছেন। তাঁরা আমার আদেশে বহু কিতাব ছাপিয়েছেন ও ছাপাইতেছেন। আমার পক্ষে সকলের কিতাব সম্পূর্ণ দেখা সম্ভব ও সময় হয়না। কাজেই যদি কারো কিতাবে আমার কুরআন-সুন্নাহ্ সম্মত মত ও শরীয়তের কোনো খিলাফ মত লিখে থাকেন, তবে তা আমল করবেন না বরং তাঁর সংশোধনের জন্য তাঁকে জানিয়ে সংশোধন করাবেন।
৭৭. এল্ম দুই প্রকার। ইলমে জাহের ও ইলমে বাতেন। ইলমে জাহের শরীয়ত, কুরআন শরীফ ও হাদীস শরীফ এবং ফেক্বাহ্ শরীফ ইত্যাদি শরীয়ত মোতাবেক আমল করাই শরীয়ত। শরীয়ত ব্যতীত মারেফত, হাক্বিকত, ত্বরীকত হতে পারে না। উহা মিথ্যা ছাড়া কিছুই নয়। যেমন- দুধ শরীয়ত ধরলে ঘী-মারেফত। দুধ অস্বীকার করে যেমন ঘী সম্ভব নয় তেমন শরীয়ত ব্যতীত মারেফত, তরীক্বত, হাকীক্বত সম্ভব নয়। আবার ঘী তথা মারেফত অস্বীকার করা মানে দুধ তথা শরীয়ত কুরআন-সুন্নাহ্ অস্বীকার করা। শরীয়ত ছেড়ে যারা মারেফত আমল করে তারা ফাসেক। শরীয়ত অনুযায়ী ত্বরীকত, মারেফত এবং হাক্বিকত শিক্ষা করা ফরয। যারা ত্বরীকত আমল করে না, তারা ফাসেক। যারা সত্য শরীয়ত, ত্বরীকত, মারেফত, হাক্বিকত ও তাসাউফ অবজ্ঞা বা অস্বীকার করে তারা কাফের।
৭৮. কদমবুসি জায়েয আছে, পীরের পায়ে হাত দিয়ে সেই হাতে তাজিমের জন্য চুম্বন করা বিদয়াতে হাসানা- জায়েয। মুখ দিয়ে কদমবুসি সুন্নতে সাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম- আদাবুল মুফরাদ ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ৯৭৫ নং, তিরমিযী ইত্যাদি।
৭৯. আল্লাহ পাক ব্যতীত অন্য কাউকে ইবাদতের সেজদা করা কুফর তাহিয়াতের সেজদা করা হারাম। এই হারামকে মুবাহ্ বললে তার ঈমান থাকবেনা। আল্লাহ্ পাক ছাড়া কোনো পীর বা কবর-মাজারে সেজদা করা হারাম ও শেরেক।
৮০. মোরগ বা মুরগী বেঁধে খাওয়া সুন্নত। নবীজি পাক (ﷺ) উহা বেঁধে রেখে খেয়েছেন। আমি ও আমার মুরিদ-মুতাকিদ ও সর্বসাধারণ ভাইদেরকে আদেশ করি। জাল্লালা (ছেড়ে রাখা) মোরগ ও মুরগী তিন দিন বেঁধে রেখে খাবার দিয়ে তারপর যবেহ করা সুন্নত। না বেঁধে খাওয়া মাকরূহে তাহরিমি।
৮১. হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ) শেষ নবী, উনার পরে কোনো নবী হবে না। যদি কেউ কোনো সময় পরয়গম্বরী দাবী করে, তবে সে মিথ্যাবাদী কাফের। যেমন: কাদিয়ানী, বাহাই ইত্যাদি।
৮২. বর্তমানে একদল ফকির বের হয়েছে, তারা বাগদাদী সেজদা করে, তারা উত্তরদিকে সেজদা করে পীর সাহেব, পীর সাহেব বলে থাকে, উহা হারাম। উহা জায়েয জানলে, বেদ্বীন হয়ে যাবে।
৮৩. পীর খান্দানই যে কেবল পীর হবে, এমন কথা কোনো কিতাবে নেই। যিনি শরীয়ত, ত্বরীকত, হাকীক্বত তাসাউফ ও মারেফত ইত্যাদিতে কামেল হবেন এবং খেলাফত থাকবে তিনিই পীর হতে পারবেন, যে বংশেরই হোক না কেন মুত্তাকি হলে গ্রহণযোগ্য। হারাম-হালাল হক্ব-বাত্বিল বাছাই করা মুত্তাকী না হলে নবী বা পীর বংশের হলেও তাকে মানা যাবে না।
৮৪. আমার মুরীদ-মুতাকিদগণ, আমার আদিষ্ট দরূদ শরীফ ও অজিফাসমূহ মুরাক্বাবা ইত্যাদি যথারীতি করবেন। মিথ্যা কথা বলবেন না, মিথ্যা সাক্ষ্য দিবেন না, পর্দাপুশিদা মতে চলবেন, সুদ ও ঘুষ খাবেন না, হারাম মাল খাবেন না, হারাম কাজ- যেমন ইসলামের নামে ছবি-ভিডিও, গান-বাজনা করবেন না ও উহা শুনবেন না। ঐ সকল হতে পরহেজ না করলে, বেপর্দা হলে ক্বলব বন্ধ হয়ে যাবে। মা’রেফতের কোন স্বাদ পাবেন না। শরীয়তের খেলাফ বলে দাবী করলে, আল্লাহ্ পাক উনার নিকট দায়ী থাকবেন। আমি ঐরূপ মুরীদ ও খলিফা চাই না, তাদের নিকট কেউ মুরীদ হবেন না।
৮৫. বাজারের ভেজাল ঘৃত, দধি, মিষ্টান্ন, সাদা চিনি হতে পরহেজ করবেন। আমি ঐ সকলের মর্ম যতদুর অবগত হয়েছি, তাতে আমার উচিত হয় যে, সর্ব-সাধারণের পরহেজগারী অবলম্বন করার জন্য ও সুস্থ থাকার জন্য ঐ সকল ব্যবহার করতে নিষেধ করি।
৮৬. কেউ জামাতা হতে মেয়ে আটক রাখবেন না। জামাতার সাথে কোন বিষয়ে বিবাদ হলে, মেয়ে আটক করা হারাম। কেউ কন্যা ও ভগ্নীদেরকে আটক রাখবেন না। যদি কোন বিবাধ উপস্থিত হয় তবে তা মিমাংসা করে শীঘ্রই মেয়ে পাঠিয়ে দিবেন। আর ছেলেরা হলে মেয়েদেরকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিয়ে আসবেন।
৮৭. নিজ স্ত্রীকে কেউ বাপের বাড়ী বা অন্যত্র ফেলে রেখে কষ্ট দিবেন না। তাদেরকে পর্দাতে রেখে তাদের হক যথারীতি আদায় করবেন নচেৎ গুনাহগার হবেন। স্ত্রী স্বামীর অথবা স্বামী—স্ত্রীর, সন্তান—মা—বাবা, বউ—শাশুড়ী, এক মুরিদ আরেক মুরিদের পরস্পরের সঠিক হক আদায় করা ফরজ ও সুন্নত ১০০ শহীদের মর্যাদা।
৮৮. কেউ হুক্কা, বিড়ি—সিগারেট, গুল ব্যবহার করবেন না। উহা মাকরূহে তাহরীমি তামাকপাতা, জর্দা খাওয়া মাকরূহ। মদ, গাঁজা, ভাঙ্গ, হিরোইন ও নেশার দ্রব্য সকল হারাম।
৮৯. গোরস্থানের নিকট পায়খানা-প্রসাবের স্থান করবেন না। করলে গুনাহগার হবেন ও বদদোয়া প্রাপ্ত হবেন। গোরস্থানের হেফাজত করবেন, গোরের উপর দিয়ে পথ দিবেন না।
৯০. আমার মাদ্রাসার সকল ছাত্র-শিক্ষক, খাদেম-খুদামা সকলের প্রতি আমার অসিয়ত, আপনারা প্রত্যেকেই এখান থেকে একজন হক্বানী আলেম ও অলী হয়ে নিজ এলাকায় গিয়ে হক্বের দা’ওয়াত সিদ্দীক্বিয়া দরবার শরীফের সুন্নতী মাদ্রাসার আঙ্গিকে একটি করে মাদ্রাসা দিবেন। আল্লাহ্ পাক ও নবীজি পাক ﷺ উনার সন্তুষ্টির জন্য প্রত্যেক এলাকায় হক্বের দা’ওয়াত প্রচার করবেন। আপনাদের দ্বারা লক্ষ—কোটি মানুষ হক্বের দা’ওয়াত পেয়ে যাবে ইংশা-আল্লাহ্।
৯১. মাজারে বা কবরে সেজদা দেওয়া শিরক। কবর জিয়ারত করা সুন্নত। কবর ধোয়া পানি পান করা হারাম।
৯২. মুহররমের তাজিয়া মাতম বের করা হারাম। ইহা হতে সাবধান থাকবেন। উহা শিয়াদের আমল। পহেলা বৈশাখ ও পহেলা জানুয়ারী পালন করা খ্রিষ্টান-হিন্দুদের আমল।
৯৩. খাঁটি শরীয়ত পন্থি হক্বানী পীর, অলীদেরকে সর্বদা ভালোবাসবেন। হিংসা ও দুশমনী করলে ঈমানহারা কাফের হবেন।
৯৪. সাংসারিক ব্যাপারে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করবেন। যা উপার্জন করবেন, তিনভাগ করবেন। একভাগ ওয়ারিশদের জন্য জমা রাখবেন, একভাগ দান-খয়রাত, বা হাদিয়া করবেন, একভাগ সংসার খরচ করবেন।
৯৫. তাক্বওয়া ও পরহেজগারী যথাসাধ্য করবেন। যিকির-মুরাক্বাবা, দরূদ শরীফ ও তাওবা সকাল-সন্ধ্যায় ঠিক রাখবেন। আমার নিকট হতে যারা বাতেনী শিক্ষালাভ করেছেন তা নিয়মিত আমল করবেন।
৯৬. রাত্রি দ্বি-প্রহর, জানাজা ও জুমআ’র খুৎবা সহ সকল আজানের পর এবং ফরজ নামাজের পর হাত তুলে দোয়া করবেন, ইহা সুন্নাত।
৯৭. আধুনিক দুনিয়ার হাওয়ায় মাতবেন না। হক্বের দা’ওয়াত সারাজীবন দেয়ার চেষ্টা করবেন। বাইয়াত, দা’ওয়াত ও হাকীক্বতে জিহাদভিত্তিক কুরআন-সুন্নাহর খেলাফতের পক্ষে সর্বদা থাকবেন। ইসলামের নামে গণতন্ত্র সহ কাফের-মুশরিকদের কোনো তর্জ-ত্বরীকা, তাশাব্বুহ্ করবেন না।
৯৮. আক্বিদা : কোনোক্রমেই নবীজি ﷺ উনাকে আমাদের মত, বড় ভাইয়ের মত, মাটির মানুষ বলা, মাযহাব ও হক্ব পীরের কাছে বাইয়াত হওয়ার দুশমনি করা ইত্যাদি কুফরী আক্বিদা পোষণ করা যাবেনা। হাত তুলে মুনাজাত, মীলাদ-ক্বিয়াম, ঈদে মীলাদুন্নবী ﷺ শবে বরাত, আশুরা, শবে ক্বদর ইত্যাদি সুন্নত আমলের দুশমনি করা যাবেনা। মহান আল্লাহপাক অহীর মাধ্যমে গইবের সংবাদ দিয়েছেন সবই নবীজি পাক ﷺ উনাকে জানিয়েছেন কুরআন ও সহীহ্ বুখারী) তিনি জানেন। (সূরা আলে ইমরান-৪৪ ও সূরা ইউসুফ -১০২ আয়াত শরীফসহ অসংখ্য দলীল) সমগ্র জগতের সব কিছুকেই মহান আল্লাহপাক তিনি হুজুর পাক ﷺ উনার সামনে হাতের তালুর মত হাজির রেখেছেন (সূরা আহযাবের ৪৫ নং আয়াত সহ অসংখ্য দলীল) মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, দায়লামী সহ অসংখ্য সহীহ্ হাদীস শরীফ, তাফ: ইবনে আব্বাস, ও সূরা মায়েদার ১৫ নং আয়াত শরীফ সহ অসংখ্য দলীল এবং সকল সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম গণ ও ফুরফুরা শরীফ সহ সকল হক্ব তরীক্বার অলী—আউলিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের মতে- তিনি সৃষ্টিকুলের শ্রেষ্ঠ নূর নবীজি ﷺ।
পরিশেষ : আক্বিদাগুলো ঠিক রেখে আমলগুলো সঠিকভাবে করতে পারলে ও সত্যের সাথে মৃত্যু পর্যন্ত টিকে থাকতে পারলে ইংশা-আল্লাহ্ আল্লাহর অলী হয়ে কবরে যাওয়া সম্ভব হবে।

(সূত্র: মুর্শিদ ক্বিবলা উনার লিখিত কিতাব- “ইলমে তাসাউফ ও মা’রেফতের গুপ্ত ভান্ডার” পৃষ্ঠা-২০০-২১৪ পৃষ্ঠা, “শত শত আমল-আক্বীদায় হক্ব ও বাত্বিলের পরিচয়”-৮৮২-৮৯০ পৃষ্ঠা)

লেখক সম্পর্কে

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

share

এখনই শেয়ার করুন

ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ

forum 2 Comments

  1. মুহাম্মাদ মাসুম schedule

    আলহামদুলিল্লাহ

  2. Ridoy Ahamed Sojib schedule

    প্রিয় মুর্শিদ কিবলা ওনার প্রতিটি বানী চির অমূল্য।

    আল্লাহ তায়ালা মুর্শিদ কিবলা উনাকে সু-দীর্ঘ হায়াত দান করুন।
    আমিন🤎

edit মন্তব্য করুন

reply Ridoy Ahamed Sojib-কে উত্তর দিচ্ছেন বাতিল

person
email

যোগাযোগ শুরু করুন

দ্বীনি জিজ্ঞাসা বা সহায়তা দরকার?

আপনি প্রশ্ন করতে চাইলে, বিস্তারিত বার্তা পাঠাতে চাইলে বা সরাসরি কল করতে চাইলে নিচের অপশনগুলো থেকে একটি বেছে নিতে পারেন।

২৪/৭ অনলাইন সেবা
১০০+ দ্বীনি প্রশ্নের উত্তর
৫০০০+ সন্তুষ্ট মুসলিম

🛒 শপিং কার্ট

কার্টে কোনো বই নেই।