বাতিল ফিরকারা কেন মুর্শিদ ক্বিবলা MMD. আশরাফ সিদ্দীকীর বিরোধিতা করে??
প্রিয় মুসলিম ভাইসব- আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহুম। সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার যিনি পবিত্র কুরআন ও উনার প্রিয় হাবীব হুজুর পাক (ﷺ) উনার মাধ্যমে অশান্ত ও বাতিল মত পথে বিভ্রান্ত মানব গোষ্টীকে হেফাজত করে শান্তিপূর্ণ হক পথে পরিচালিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।
অসংখ্য অগণিত দরূদ ও সালাম শান্তির দূত হুজুর পাক (ﷺ) উনার উপরে যিনি তাঁর পাক জবান মুবারাকে ঘোষণা করেছেন—
حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الْحَفْرِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ الثُّورِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمِ الإِفْرِيقِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم “وَإِنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ تَفَرَّقَتْ عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً، وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ مِلَّةً كُلُّهُمْ فِي النَّارِ إِلَّا مِلَّةً وَاحِدَةً” قَالُوا: وَمَنْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: “مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي”
আমার উম্মতেরা ৭৩টি দলে বিভক্ত হবে ৭২টি দল (ধর্ম ব্যবসা ও হুজুর পাক (ﷺ) উনার প্রতি দুশমনি আকীদা পোষণের কারণে) জাহান্নামে যাবে (যদিও তারা লোক দেখানো নামাজ, রোযা, হজ্জ, যাকাত সবই আদায় করবে) যে দলের আমল, আকীদা, তাফসীর বয়ান তিনি এবং তাঁর সাহাবী গণের সাথে মিল থাকবে এমন একটি দল জান্নাতি তথা মুক্তি প্রাপ্ত হবে। (তিরমিযী ২৬৮১ নং হাদীস ও আবু দাউদ ৪৫৫৭ নং হাদীস, মিশকাত শরীফ ৩০ প্. ১৭১ নং হাদীস সহ প্রায় ১০৫টি হাদীসের কিতাব)।
হুজুর পাক (ﷺ) উনার চাইতে ভালো চরিত্রের মানুষ পৃথিবীতে আর একজনও ছিলেন না ভবিষ্যতেও আসবেন না। তারপরেও উনাকে ও উনার আসহাবগণকে উনার দুশমনেরা বিভিন্ন ভাবে কষ্ট দিয়েছে এবং প্রত্যেক কাজে বাঁধার সৃষ্টি করেছে। উনার বিরুদ্ধে বয়ান ও স্লোগান, মিছিল, মিটিং, অবরোধ, ধর্মঘট, লংমাচ, ঘেরাও করেই ধর্ম ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ক্ষ্যান্ত হয়নি- উনাকে পাগল, যাদুকর, ভণ্ড, মিথ্যাবাদী বলেও প্রচার করেছে (নাউযুবিল্লাহ)। তারপরেও লক্ষ দুশমনের মোকাবেলায় মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ দয়া ও মদে মাত্র ৩১৩ জন উনার মহব্বতের (উম্মত) সাহাবীকে নিয়ে শুরু করে তিনি ইসলামের হক্ক-পথকে বলিষ্ঠ ভূমিকায় সারা বিশ্বের আনাচে-কানাচে হক্কানী আলিম ও অলীদের দ্বারা পৌঁছে দিয়েছেন।
প্রমাণিত হলো হকের সর্ব বলিষ্ঠ দলীল হচ্ছে- বাতিল ধর্ম ব্যবসায়ী গোষ্ঠী হকের বিরুদ্ধে স্লোগান, ধর্মঘট, অবরোধ, হরতাল, লংমার্চ সহ বিভিন্ন বাতিল অমুসলিমদের তর্জ তরীক্বায় বাঁধার সৃষ্টি করবে। কিন্তু আল্লাহ পাক উনার কুদরতি মদদে বাতিল গোষ্ঠী বাতিলই থাকবে এবং হকের সূর্য উদিত হবে মানুষকে হেদায়েতের সঠিক আলোকের পথে নিয়ে আসবেই ইনশা-আল্লাহ। মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন- “পাপী বা দুষ্ট প্রকৃতির লোকেরা প্রত্যেক নবী-রাসূল (ﷺ) উনাদের শত্রু।” (পবিত্র সূরা ফুরকান : আয়াত শরীফ ৩১)
মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্যত্রে আরও ইরশাদ মুবারক করেন- “জিন ও মানুষের মধ্যে যারা শয়তান প্রকৃতির তারাই প্রত্যেক নবী-রাসূল (ﷺ) উনাদের শত্রু।” (পবিত্র সূরা আনআম : আয়াত শরীফ ১১২)
উপরোক্ত আয়াত শরীফদ্বয় থেকে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠে, তা হলো- (১) মানুষ ও জিন জাতির মধ্যে যারা শয়তান প্রকৃতির তারা হযরত নবী-রাসূল (ﷺ) উনাদের শত্রুতা বা বিরোধিতাকারী হবে। (২) যেহেতু হযরত নবী-রাসূল (ﷺ) উনাদের শত্রু ছিল; সেহেতু হযরত নবী-রাসূল (ﷺ) উনাদের ওয়ারিছ হিসেবে আউলিয়ায়ে কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনাদেরও শত্রু থাকবে। (৩) হযরত নবী-রাসূল (ﷺ) ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের সাথে শত্রুতা পোষণকারীরা অবশ্যই দুষ্ট, পাপী এবং শয়তান প্রকৃতির।
হাদিসে কুদসীতে এসেছে,
مَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ كَرَامَةَ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ حَدَّثَنِي شَرِيكُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي نُمَيْرٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ قَالَ مَنْ عَادَى لِي وَلِيًّا فَقَدْ آذَنْتُهُ بِالْحَرْبِ
অর্থ : হযরত আবু হুরায়রা (ﷺ) থেকে বর্ণিত- নবীপাক (ﷺ) বলেছেন, মহান আল্লাহ পাক বলেন- যে ব্যক্তি আমার কোনো অলীর সঙ্গে দুশমনি করবে, আমি তার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করবো। (বুখারী শরীফ: ৬৮০২ নং হাদিস)
প্রসঙ্গ আরও উল্লেখ্য যে, মুসলমানদের চরম শত্রু ইহুদী-খ্রিস্টান-মুশরিক-নাছারা তথা সকল বিধর্মীরা মুসলমানদের ঈমান-আমল-আক্বীদা ধ্বংসের জন্য এই দুষ্ট, পাপী ও শয়তান প্রকৃতির লোকগুলোকে ব্যবহার করে থাকে। এদের দ্বারাই আউলিয়ায়ে কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের বিরোধিতা করে। যার বাস্তব উদাহরণ হচ্ছে- বগুড়ার ‘ঈমান-আক্বিদা সংরক্ষণ কমিটি’র নামে দাজ্জালে কাজবাব তথা উলামায়ে ছু গং। তাই সহীহ হাদীস শরীফে উল্লেখ আছে, “ইহুদী-নাছারারা মুসলমানদের ঈমান-আমল ধ্বংস করার জন্য তিন প্রকার লোককে ব্যবহার করে। যথা- ১. বিভ্রান্ত রাজা-বাদশাহ, ২. মুনাফিক মুসলমান, ৩. পথভ্রষ্ট মাওলানা অর্থাৎ উলামায়ে ছু।” (কিতাব আল আছহার)
এদের মধ্যে ইসলাম ও মুসলমানের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতির কারণ হচ্ছে- গুমরাহ তথা পথভ্রষ্ট মাওলানা, মুফতী, মুফাসসির, মুহাদ্দিস, খতীব, ইমাম, আমীর, আল্লামা, ওয়াজিয়িং অর্থাৎ উলামায়ে ছু বা ধর্মব্যবসায়ীরা। বর্তমানে উলামায়ে ছু বা ধর্মব্যবসায়ীদের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে ওহাবী, খারেজী তাদেরকে ভোট দিলে নবী ভোট পায়, এজিদকে রহমাতুল্লহি আলাইহি বলে, নবীজি পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে তাদের মত, মাটির মানুষ বলা, মিলাদ-কিয়ামতের দুশমনি, হক্কানী অলীদের দুশমনি, হারাম ছবি-ভিডিওকে যায়েজ বলা মুগ্সি মৌ-লোভী সহ অনেকেই। এরা শিয়া, রাফিযী, খারিজী, মুতাযিলা, মুরাজিয়া, কাদিয়ানী, বাহাইদের মতোই বাতিল ফিরকার অন্তর্ভুক্ত। কারণ এরা অসংখ্য কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও শরীয়ত বিরোধী তথা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত ও হক্কানী অলীদের বিরোধী আমলে মশগুল।
প্রতিনিয়ত এদের মুখোশ উন্মোচন করা হয় বলে এরা মুহাম্মাদ আলহাজ্ব MMD. ইমাম আশরাফ আলীমুল্লহ্ সিদ্দীকী এবং হক্ক অলীদের সম্পর্কে মিথ্যা অপপ্রচার করে থাকে। আর করাটাই স্বাভাবিক। কারণ বাতিলপন্থীরা শুরু থেকেই হক্বের বিরোধিতা ও অপপ্রচার করে আসছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত করতেই থাকবে। তাতে হক্বপন্থীদের কোনো সমস্যা নেই। যেহেতু তাঁদেরকে স্বয়ং আল্লাহ পাকই নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন।