হক্বের দা'ওয়াত সিদ্দীক্বিয়া দরবার

সন্ত্রাস-জঙ্গীপনা বিরোধী সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক পীর মুরিদী সুন্নতী দরবার

​নিজ মুর্শিদ ক্বিবলার প্রতি মুরিদের আদব-কায়দা কি?

Amanullah Aman
calendar_month আগস্ট 6, 2026 schedule 5 মিনিটের পঠন visibility 319 জন পাঠক
Font Size:

​নিজ প্রিয় সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলার প্রতি মুরিদ বা সালেকগণের আদব-কায়দা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা:

​মুরিদ বা সালেকের জন্য আদব-কায়দার প্রতি খেয়াল রাখা অবশ্য কর্তব্য। আদব অর্থ স্বাভাবিকতা। অর্থাৎ যা-ই স্বাভাবিক, তাই আদব। দ্বীন ইসলামকে বলা হয় “ফিতরাত” বা স্বাভাবিকতার ধর্ম। অর্থাৎ অন্য ভাষায় ইসলাম আদবেরই ধর্ম। অন্যদিকে তরীক্বত সম্পর্কে প্রসিদ্ধ কিতাবে বলা হয়েছে যে,
اَلطَّرِیْقَةُ کُلُّھُ اَدَب
অর্থ: “তরীক্বতের সবটুকুই আদব।”
তাই তরীক্বতের মধ্যে বেয়াদবের কোনো ঠাঁই বা স্থান নেই। এ কথাটিকে ফার্সিতে বলা হয়েছে এভাবে—
“বেয়াদব মাহরুমে গাস্ত আজ লুৎফে রব”।
অর্থ: “বেয়াদব আল্লাহ তা’আলার রহমত (করুণা) থেকে বঞ্চিত।”
​আদবের গুরুত্বের প্রতি খেয়াল রেখেই আমরা এখানে যৎকিঞ্চিৎ আলোচনা করবো। প্রকৃতপক্ষে আদব শেখার কোনো শেষ নেই। যা কিছু স্বাভাবিক তাই শিখতে হবে, গ্রহণ করতে হবে। এখানে মুরিদ বা সালেকের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু আদব তাসাউফের বিভিন্ন প্রসিদ্ধ কিতাব হতে বর্ণনা করা হলো। বাকী আরো অনেক কিছু নিজ প্রিয় সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলার সোহবতে এসে শিখতে হবে।

​১. সালেক বা মুরিদ সর্বদা নিজ মুর্শিদকে আল্লাহ পাক ও হুজুর পাক (ﷺ) উনাদের পরেই শ্রেষ্ঠ মনে করবে।
২. মনকে সকল দিক থেকে সরিয়ে মুর্শিদের দিকে নিয়োজিত রাখবে। যথাসম্ভব মাল সম্পদ, জান ও জ্ঞান দিয়ে তাঁর খেদমতের করবে।
৩. মুর্শিদের হুকুম ছাড়া তাঁর সামনে ফরজ ও সুন্নত ব্যতীত কোনো নফল আমল করবেননা।
৪. মুরিদ এমন স্থানে দাঁড়াবেনা, যাতে করে মুর্শিদের উপর বা তাঁর ছায়ার উপর মুরিদের ছায়া বা পা পড়ে।
৫. মুর্শিদের খাছ কোনো কিছুই ব্যবহার করবেনা। তাঁর জায়নামায বা সেণ্ডেলের উপর পা রাখবে না। ওযু-গোসলের স্থানে ওযু-গোসল করবেননা। পায়খানা-পেশাব খানার ক্ষেত্রেও একই হুকুম।
৬. মুর্শিদের সামনে বসে তাঁর বিনা হুকুমে খাওয়া-দাওয়া করবেননা, এমনকি এক মুহূর্তের জন্য অমনোযোগী হবেননা।
৭. মুর্শিদ যেদিকে আছেন, সেদিকে কখনো পা বিস্তার করবেননা বা থু থু ফেলবেননা।
৮. মুর্শিদের সকল কাজকেই ভাল মনে করবে, যদিও প্রকাশ্যে তা ভাল মনে না হয়। কামিল মুর্শিদ আল্লাহ তা’আলার তরফ থেকে ইলহাম প্রাপ্ত হয়েই কাজ করে থাকেন। যদিও অনেকেরই তা বুঝার জ্ঞান নাই।
৯. মুর্শিদকে সবচেয়ে বেশী মুহব্বত করবে। সব ব্যাপারে তাঁর অনুসরণ করবে। তাঁর কাজ থেকেই ফিক্বহার হুকুমাদি শিক্ষা করবে।
১০. মুর্শিদের চাল-চলন ও আচার-ব্যবহার কখনো বাদ-প্রতিবাদ, এমনকি অন্তরে কোনো সন্দেহ পর্যন্ত পোষণ করবেননা।

১১. মুর্শিদের নিকট কখনোই কেরামত দেখতে চাইবেনা।
১২. মুরিদের মনে কোনো সন্দেহের উদ্রেক হলে মুর্শিদের নিকট আরজ করবে। তিনি বুঝিয়ে দিলে যদি মন না বুঝে, তবে নিজেরই ত্রুটি মনে করবে। মুর্শিদের প্রতি কোনো সন্দেহ পোষণ করবেননা।
১৩. কোনো ঘটনা বা স্বপ্ন প্রকাশ পেলে, তা মুর্শিদের নিকট আরজ করবে, তিনি যা ব্যাখ্যা করেন, তাই মেনে নিবে। নিজের কাশফ বা ইলহামের উপর কোনোরূপ ভরসা করবেননা।
১৪. মুর্শিদের সোহবতে থেকে বিনা কারণে ও বিনা অনুমতিতে প্রস্থান করবেননা। তাঁর সামনে উচ্চস্বরে কথা বলবেননা বা তার সামনে হাঁটবে না।
১৫. মুরিদ বা সালেক যা কিছুই হাসিল করুন না কেন, তা স্বীয় মুরশিদের উছিলায় মহান আল্লাহর রহমতে হয়েছে ধারণা রাখবে।
১৬. মুরশিদের নিকট অপরের সালাম নিয়ে আসা আদবের খেলাফ। তাঁর নিকট এসে কিছুদিন থাকার ইচ্ছা হলে পূর্বেই চিঠি-পত্রাদি বা অন্য কোনো মারফত অনুমতি নিয়ে আসা দরকার। চিঠি-পত্রাদি সরাসরি মুরশিদের নিকট না লিখে দরবারের অন্য কারোর নিকট লিখাই অধিক শিষ্টা বা আদব।
১৭. মুরশিদের সহিত কখনোই তর্ক-বিতর্ক করবেনা। তাঁর উপর কোনো ইচ্ছা চাপানোর চেষ্টা করবেনা বরং তাঁর ইচ্ছানুসারে কাজ করবে, তাঁর নিকট এমনভাবে থাকবে, যেমন গোসলদানকারীর হাতে মৃত ব্যক্তি।
১৮. নিজের সব গুরুত্বপূর্ণ কাজ যথাসম্ভব তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী করবে।
১৯. মুরিদ বা সালেক নিজেকে মুরশিদের অন্যান্য মুরিদের সকলের চেয়ে নিকৃষ্ট ও হীন মনে করবে। এবং সকল মুরিদের সাথে নিজ ভাইয়ের মত ব্যবহার করবে। কারণ নিজ ভাই-মা-বাবা ইত্যাদি কেয়ামতের দিন সবাই সবাইকে ভুলে যাবে। কিন্তু আল্লাহর মহব্বতে যাদের সাথে মহব্বত হবে এক সাথে তাদের হাশর ও জান্নাত হবে। কেউ কাউকে ভুলতে পারে না। (পবিত্র সূরা আবাসার শেষের আয়াতসমূহ, বুখারী, মুসলিম ইত্যাদি।)
২০. মুর্শিদ কাশেফ দ্বারা মুরিদের অবস্থা জ্ঞাত হচ্ছেন, এটা না ভেবে তাঁর নিকট নিজ হাল বা অবস্থা জানাবে।

২১. মুর্শিদের সাথে সময় ও সুযোগ বুঝে বিনয়ের সাথে কথা বলবে। তাঁর জবাব খুব মনোযোগ ও ভক্তিভরে শুনবে।
২২. মুর্শিদের আওলাদ-ফরজন্দকে তাঁরই জাত হিসেবে তাঁর তুল্য সম্মান করবে। তাঁর আত্মীয়-স্বজনদেরকেও পরম ভক্তি করবে। অন্যদিকে তাঁর সাথে ঘনিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে তাঁর নিকট মর্যাদা তলব করবেননা।
২৩. অবশ্য মুরিদ যদি প্রাণপণ চেষ্টা করেও মুর্শিদের প্রতি আদবসমূহ রক্ষা করতে না পারে, তবে অবশ্যই অবশ্যই তাঁর নিকট অক্ষমতা প্রকাশ করে মাফ নিতে হবে।
২৪. প্রত্যেক তরীক্বতের মুরিদ বা সালেকগণের জন্য স্বীয় তরীক্বতের পূর্ববর্তী বুযুর্গগণের শাজরানামা পাঠ করা, সে বিষয়ে পূর্ণ ওয়াকিফহাল থাকা একান্ত আবশ্যক।
২৫. প্রত্যেক সালেক বা মুরিদের মন শায়েখের প্রতি নিবন্ধ থাকা উচিত। সবক আদায় করতঃ সালেকের কি হাসিল হলো অথবা না হলো সেদিকে দৃষ্টিপাত করা উচিত না কেননা তা গায়রুল্লাহ। এবং সবকের হাল উপলব্ধি বা সবকের বিষয়ে অধিক জ্ঞান হাসিলের জন্য অন্য কারো দ্বারস্থ হওয়া উচিত না।

​এখানে একটি বিষয় বুঝে নিতে হবে যে, মুরিদ বা সালেক নিজ মুরশিদের উছিলায় ফানা-বাকা মর্তবা পর্যন্ত উপনীত, যার ইলহাম এমন প্রশস্ত ও উন্মুক্ত যে, তার মুর্শিদ ক্বিবলাও এটা অনুমোদন করেন ও তাঁর পূর্ণতার সাক্ষ্যদান করেন, শুধুমাত্র সে-ই নিজ ইলহাম অনুযায়ী আমল করতে পারবে, অথবা তার মুর্শিদের ইলহাম অনুযায়ী আমল করতে পারবে, যদিও তা তার মুর্শিদ ক্বিবলার ইলহামের বিপরীত হয়।

​মনে রাখতে হবে, আদব তরীক্বতের জন্য একান্তই আবশ্যক। আদব ব্যতীত সোহবতের কোনো ফল পাওয়া যাবেনা। এমনকি তরীক্বতের শিক্ষাই পূর্ণ হবে না। বর্ণিত আছে-হাদীয়ে বাংলা ও আসাম হযরত কারামত আলী জৈনপুরী কদ্দী., তাঁর মুর্শিদ মুজাদ্দিদে যামান, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী কদ্দী.-উনার দরবার শরীফে ৮ দিনে তরীক্বতের সায়ের-সুলুক শেষ করেন। কিন্তু তারপরেও ১০ দিন সেখানে অবস্থান করে আদব শিক্ষা করেন। সুবহানাল্লাহ।
​উপরোক্ত ঘটনায় আদবের প্রয়োজনীয়তা ও ব্যাপকতা বুঝা যায়। তাই সালেকের জন্য আদব খুবই জরুরী। (অজিফা ও শাজরা শরীফ-১৪তম খণ্ড)

লেখক সম্পর্কে

Related Articles

share

এখনই শেয়ার করুন

ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ

edit মন্তব্য করুন

person
email

যোগাযোগ শুরু করুন

দ্বীনি জিজ্ঞাসা বা সহায়তা দরকার?

আপনি প্রশ্ন করতে চাইলে, বিস্তারিত বার্তা পাঠাতে চাইলে বা সরাসরি কল করতে চাইলে নিচের অপশনগুলো থেকে একটি বেছে নিতে পারেন।

২৪/৭ অনলাইন সেবা
১০০+ দ্বীনি প্রশ্নের উত্তর
৫০০০+ সন্তুষ্ট মুসলিম

🛒 শপিং কার্ট

No books in the cart.