তিনজন লোভীকে ধ্বংস করলো :
মহান আল্লাহ পাক উনার নবী হযরত ঈসা রুহুল্লাহ আলাইহিস সালাম, উনার প্রতি নাযিলকৃত কিতাব ইনজিল শরীফ অনুসারে তিনি মানুষকে হক্বের দাওয়াত দিতেন। এই উদ্দেশ্যে সারা এলাকা তিনি সফর করে বেড়াতেন। একদিন সফর করতে করতে তিনি এক স্থানে গিয়ে পৌঁছলেন। সেখানে একজন ইহুদী লোক ছিল। সে হযরত রুহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে বললো, ‘হে মহান আল্লাহ পাক উনার নবী হযরত রুহুল্লাহ আলাইহিস সালাম! আমি চাচ্ছি আপনার দ্বীন গ্রহণ করতে। আপনার অনুসারী হতে।’
তার কথা শুনে হযরত রুহুল্লাহ আলাইহিস সালাম খুশি হলেন। লোকটা দ্বীন গ্রহণ করার পর হযরত রুহুল্লাহ আলাইহিস সালাম বললেন, ‘আমি তো এখন চলে যাবো, কারণ আমি সফর করতে বের হয়েছি। তোমাকে যা নিয়ম-কানুন বলে দিলাম, তুমি সে অনুযায়ী আমল করবে।’ কিন্তু লোকটা বললো, ‘হুজুর, বেয়াদবি মাফ করবেন। আমার মনে আপনার সঙ্গে সফর করার ইচ্ছা ছিল। আমি মহান আল্লাহ পাক উনার যমীন একটু ঘুরে দেখতে চাই আর আপনার সহবত ইখতিয়ার করে মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক হাসিল করতে চাই। আপনি দয়া করে আমাকে আপনার সঙ্গে নিন।’ লোকটার কাকুতি-মিনতি শুনে হযরত রুহুল্লাহ আলাইহিস সালাম রাজী হলেন। লোকটাকে সাথে নিয়ে রওয়ানা হলেন।
বেশ কিছুদূর সফর করার পর হযরত রুহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ক্ষুধা লাগলো। উনার কাছে একটা আটার রুটি ছিল। তিনি সেটা বের করে খেলেন। লোকটার কাছেও রুটি ছিল, সেও একটা রুটি বের করে খেল। হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনারা সবাই মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে গায়েবী ইলমপ্রাপ্ত। সুতরাং হযরত রুহুল্লাহ আলাইহিস সালাম জানতেন যে, লোকটার কাছে আরেকটি রুটি রয়েছে। কিন্তু তাকে যখন এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন, সে বললো, ‘না হুজুর! আমার কাছে দ্বিতীয় কোনো রুটি নেই; একটি রুটি ছিল। আপনি যেমন একটি রুটি খেলেন, আমিও একটি খেলাম।’ তার অস্বীকার করার কারণ হলো, সে ভেবেছিল দ্বিতীয় রুটিটি বের করলে অর্ধেক রুটি হযরত রুহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে দিতে হবে। নাউজুবিল্লাহ! হযরত রুহুল্লাহ আলাইহিস সালাম আর বেশি কিছু না বলে সফর করতে লাগলেন।
বেশ কিছুদূর যাবার পর আবার ক্ষুধা লাগলো। কিন্তু সেখানে খাদ্যের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। কোনো ঘর-বাড়ীও ছিল না। শুধু একটা লোক মেয চরাচ্ছিলেন। হযরত রুহুল্লাহ আলাইহিস সালাম সেই মেষপালের কাছে নিজের পরিচয় দিয়ে বলেন, তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নবী হযরত ঈসা রুহুল্লাহ আলাইহিস সালাম। পরিচয় পেয়ে মেষপালক ব্যাকুল হয়ে গেলো, কারণ সে হযরত রুহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে অনেক তালাশ করেছে, কোথাও পায়নি আর আজকে তিনি নিজে এসে পরিচয় দিয়েছেন। সে মহান আল্লাহ পাক উনার শুকরিয়া আদায় করে হযরত রুহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে বললো, ‘হুজুর! আমি আপনার কি খেদমত করতে পারি? আপনি আমাকে আদেশ করুন।’ তখন হযরত রুহুল্লাহ আলাইহিস সালাম বললেন, ‘তোমাকে তেমন কোনো খেদমত করতে হবে না। তবে আমাদের ক্ষুধা লেগেছে আর তোমার অনেক মেষ রয়েছে। তাই একটা মেষ যদি আমাকে দাও, আমি আবার তোমাকে সেটা ফিরিয়ে দিবো।’ মেষপালক বললো, ‘হুজুর! শুধু একটা কেন, আপনি যদি চান আমার সমস্ত মেযপাল আপনাকে দিয়ে দিবো।’ হযরত রুহুল্লাহ আলাইহিস সালাম বললেন, ‘না সবটা তো আমার দরকার নেই।’ তিনি একটা পছন্দমত মেষ নিলেন ও সেটা যবেহ করে খাওয়া-দাওয়া করলেন। খাওয়া শেষে মেষের হাড়গুলো একসাথে করে বললেন—কুম বি ইজনিল্লাহ। চলমান….
(তথ্যসূত্র : আম্মাহুজুর আহমাদ আকলিমা আশরাফ সিদ্দীকি লিখিত- হাজার হাজার অলৌকিক ঘটনাবলী ১ম খণ্ড-১৬১ পৃষ্ঠা)