হক্বের দা'ওয়াত সিদ্দীক্বিয়া দরবার

সন্ত্রাস-জঙ্গীপনা বিরোধী সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক পীর মুরিদী সুন্নতী দরবার

সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা উনার বিশেষ নছীহত মুবারক (২য় পর্ব)

মামুন
calendar_month জুলাই 31, 2026 schedule 5 মিনিটের পঠন visibility 105 জন পাঠক
Font Size:

সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা উনার বিশেষ নছীহত মুবারক (২য় পর্ব)
​— মুহাম্মাদ মামুনুর রশীদ সিদ্দীকী
​০৫ই রমাদ্বানুল মুবারক, ১৪৪৭ হিজরী, ২৩শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ঈসায়ী, সোমবার রাতে তারাবীহ্ নামাজের পর সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা বিশেষ নছীহত মুবারক পেশ করলেন। এ সময় দরবার ও মাদ্রাসার সকল শিক্ষক, হাফেজ, খাদেম সহ আরো অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। আমার প্রাণের আক্বা সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলাজান বললেন, আমরা কয়েকদিনের মুসাফির হিসেবে এসেছি। কয়দিন আগে আমাদের বাবারা ছিল, তারা গেছে, এখন আমরা আছি। আমরাও যাবো, আমাদের সন্তানেরা থাকবে। সন্তানেরা যাবে, নাতি আসবে। এটা আমাদের মুসাফিরখানা।
​”এ দুনিয়া সব মুসাফির হ্যায়, কবর আসল ঠিকানা,
কোই আগে রওয়ানা হ্যায় কোই পিছে রওয়ানা।”
​এ মুসাফিরখানায় এসে আমরা কেন বিভিন্নমুখী হবো? আমি বলছি যে, আমরা কিন্তু কয়েকদিনের মুসাফিরখানায় এসেছি। যেকোনো সময় আমরা বিদায় হবো। কারো কোনো গ্যারান্টি নেই। নাকি গ্যারান্টি আছে? যেকোনো সময় ডাক পড়বে আমাদের। কখন কাকে ডাক দিবেন আল্লাহ্ পাকের ইচ্ছা। আল্লাহ্ পাক কুরআন শরীফে এরশাদ মুবারক করেন,
​الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا
​সূরা মুলকের ২ নং আয়াত শরীফে ‘খলাক্বল মাউতা’ আগে আসলো কেন? সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা হাফেজদেরকে প্রশ্ন করলেন, হাফেজ সাহেবেরা বলেনতো, হায়াত আগে নাকি মউত আগে? হাফেজ সাহেবেরা উত্তর দিলেন, মউত আগে। হ্যাঁ, মউত আগে। তাহলে আল্লাহ্ পাক আগে মৃত্যু নিলেন কেন? প্রথমে মৃত্যুর উদ্দেশ্য হচ্ছে তোমাদেরকে হায়াত দিয়ে পাঠাচ্ছি, আগেই আমি ভিসা দিলাম হায়াতের, কিন্তু মউতের টিকিট দিয়ে পাঠাচ্ছি। কি বোঝা গেল? কিসের টিকিট? মউতের টিকিট। হজ্জে যখন যাবেন তখন যাওয়ার সময় দেখবেন, আগে ভিসা আসবে, ভিসার সাথে একবারে রিটার্ন টিকিট। রিটার্ন টিকিট ছাড়া যেতেই দিবে না। এই রিটার্ন টিকিট নিয়ে ওখানে ঢুকতে হবে। আপনি কতদিন থাকবেন তার প্রমাণ কি? অর্থাৎ আমরা যাচ্ছি, ছয় মাস পর যদি আসি তবুও টিকিট কনফার্ম হবে যে এতদিন পর আমি আসছি। আল্লাহ পাকও ঠিক সেটাই করেছেন। আল্লাহ পাক দুনিয়াতে হায়াত দিয়ে পাঠিয়েছেন সাথে মৃত্যুর টিকিটও দিয়েছেন। এটা অ্যাডভান্স। মরতে হবে এই চিন্তা নিয়ে দুনিয়াতে থাকতে হবে। এই জন্য মরণের ভয় রেখে আল্লাহ্ পাক ও নবীজি পাক (ﷺ) উনার সন্তুষ্টির দিকে তাকিয়ে আপনারা সবাই কাজ করবেন।
​এরপর সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা বললেন, একটি কথা আপনাদের সবার মনে রাখতে হবে, আমিextension যদি কোনো অন্যায় আদেশ দিই, আমার কাছে ওটা জিজ্ঞাসা না করে মানবেন না। আপনার বিবেক ব্রেইন বলতেছে হুজুর ক্বিবলা এটা অন্যায় আদেশ দিচ্ছে, এটা আমার সাথে জিজ্ঞাসা করে জেনে নেবেন এর ব্যাখ্যা। যতক্ষণ পর্যন্ত আমি ব্যাখ্যা দিতে না পারবো ততক্ষণ পর্যন্ত আমার অন্যায় আদেশ মানা যাবে না। মুর্শিদ যদি ব্যাখ্যা দেয় যে- হ্যাঁ ঠিক আছে বাবা, এটা এই কারণে করা হচ্ছে বা এইদিকে ১০০টা ফরজ ঠিক রাখার জন্য এটা করতে বলা হচ্ছে (কথার কথা একটা ব্যাখ্যা দিয়ে দিল), এই ব্যাখ্যা যতক্ষণ না পেয়েছেন ততক্ষণ পর্যন্ত মুর্শিদ ক্বিবলার পক্ষ থেকে অন্যায় আদেশও মানা যাবে না। এটা মনে থাকবে? তা না হলে কিন্তু হক্কের উপরে টিকে থাকতে পারবেন না। কি বোঝা গেল? কিন্তু হুজুর বলল আর তাৎক্ষণিক আমি কাজ করবো অন্যায়টা, এটা কিন্তু কারো জন্য উচিত হবে না। এটা আমাকে দিয়ে বললাম। আমার কথা কি বোঝা গেছে? মুর্শিদ যা আদেশ করেন তা মানা মুরীদের জন্য ফরজ। তবে যখন-তখন মুর্শিদ ক্বিবলা শরীয়ত বিরোধী কোনো অন্যায় কাজে ব্যবহার করবে তাহলেতো মুর্শিদ থাকবে না, সে শয়তান দ্বারা আক্রান্ত হবে। তাই মুর্শিদ ক্বিবলা দিয়ে বোঝানো হয়েছে, সবাই খেয়াল করবেন- মুর্শিদ ক্বিবলার জায়গায় যে কেউ এরকম অন্যায় আদেশ করবে, মুর্শিদ ক্বিবলার অপিনিয়ন (Opinion) ছাড়া সেটা মানা যাবে না। মুর্শিদ ক্বিবলার কথা হলো জান চলে যাবে কিন্তু হক্ব ছাড়বো না। দুনিয়ার সব তো ফেলেই দিলাম, জানটাও দেবো কিন্তু ন্যায় আর হক্ব ছাড়বো না। ন্যায় এবং হক্বের পক্ষের মুজাহিদ হিসেবে…
​[পৃষ্ঠা – ৯]
​মাসিক হক্কের দা’ওয়াত
​…কাজ শিখানোর জন্য মুর্শিদ ক্বিবলা এখানে আসা। ওই মুর্শিদ ক্বিবলার জায়গায় যে কেউ এ ধরণের অন্যায় আদেশ করুক, ওটা যতক্ষণ পর্যন্ত মুর্শিদ ক্বিবলা না জানছেন ততক্ষণ তো আমলে নেওয়া যাবে না। এটা কি মনে থাকবে? এখানে আমরা কাজ করছি আল্লাহর গোলাম আমরা সবাই। শুধু দায়িত্ব আল্লাহ্ পাক আমাকে দিয়েছেন, আমি কাজ করতেছি আপনাদেরকে নিয়ে।
​মুর্শিদ ক্বিবলার দরবারে মুর্শিদ একজনই। এমনকি মুর্শিদের ছেলে পর্যন্ত মুর্শিদ ইন্তেকালের আগ পর্যন্ত পীর হতে পারবে না। মুর্শিদ ইন্তেকাল করবে, তার সন্তান দায়িত্বে আসবে। আর এখান থেকে আমি যাদেরকে খেলাফত দিবো, কামিল-মুকাম্মিল অলী বানাবো, তাকে তার জায়গায় পাঠিয়ে দিবো। যখন তার কাজ হয়ে যাবে যে- বাবা আপনি অলী হয়ে গেছেন, এখন আপনি গিয়ে নিজের এলাকায় কাজ করবেন, তখন তার কাছে গিয়ে সে দরবার দিয়ে সেখানে সে মুর্শিদ হবে। মুর্শিদ ক্বিবলার দরবারে মুর্শিদ ক্বিবলার হুকুমের বাইরে কিছু হবে না। মুর্শিদের আদেশের বাইরে যদি আসমান থেকে কেউ নেমে এসেও কিছু বলে, এটা মানলে কিন্তু শয়তানকে মানা হবে। এ কথাটা সকলের ব্রেনের মধ্যে থাকতে হবে। কাউকে মুহব্বত করবেন মুর্শিদের মুহব্বতে। আপনারা সবাই সবাইকে মুহব্বত করেন, সম্মান করেন- আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু মুর্শিদের জায়গায় কাউকে স্থান দিলেই সেটা হয়ে যাবে বেলায়েতে শিরক। নিজ মুর্শিদ ক্বিবলার জায়গায় অন্য কাউকে যদি মুর্শিদের পজিশন দেওয়া হয় তাহলে সেটা মুর্শিদের সাথে শিরক হবে। তাসাউফ কিন্তু বুঝতে হবে। তাসাউফ না বুঝে আজগুবি কিছু করলে হবে না, তাহলে বেআদবি হয়ে যাবে। আর “আদবে আওলিয়া, বেআদবে শয়তান’। খপ করে শয়তান ধোঁকা দিয়ে ধাক্কা মেরে ফেলে দিবে। মনে থাকবে তো? কারো মধ্যে যেন বদ-আক্বিদা না থাকে। আক্বিদা কিন্তু ক্লিয়ার করতে হবে। আক্বিদা উল্টা থাকলে কিন্তু সব শেষ। কিছুই হবে না। সারাজীবন কলুর বলদের মতো ১০ বছর, ২০ বছর আপনারা কষ্ট করতেছেন- আপনাদের উদ্দেশ্যটা কী? আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি হাসিল করে এখান থেকে অলী হয়ে বের হওয়া। ঠিক আছে না? আমি এটাই চাই যে আপনারা প্রত্যেকটা এলাকায় গিয়ে একটা অলীর ভূমিকা পালন করবেন। এখানে আপনাদের ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে, শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে কিভাবে দরবার চালাতে হয়, কিভাবে মাদ্রাসা চালাতে হয়, কিভাবে ওয়াজ করতে হয়, মুর্শিদ ক্বিবলা কিভাবে কোন পথে কাজ করছেন, অন্যায় কাকে বলে ন্যায় কাকে বলে- এগুলি আপনাদের শিখতে হবে। আক্বিদাগত দিক থেকে মনে রাখবেন। কথা কি বোঝা গেল তো বাবারা?
​আল্লাহ পাকের জায়গায় যদি কেউ মনে করে যে, নবীজি পাক (ﷺ)-কে আমি আল্লাহ মনে করি, তাহলে নবীজি পাক (ﷺ)-কে আল্লাহ মনে করলে কী হবে? সাথে সাথে শিরক হবে, কুফর হবে, ঈমান শেষ হয়ে যাবে, শিরক ফিত তাওহিদ অর্থাৎ তাওহিদের সাথে শিরক হবে। “রাসূল (ﷺ)-কে মানলে আল্লাহকে মানা হবে। এজন্য এর অর্থ এই নয় যে, রাসূল (ﷺ) আল্লাহ। অনুরূপভাবে নবীজি পাক (ﷺ)-উনাকে মানার জন্য হক্কানী পীর-মুর্শিদ মানতে হবে। কিন্তু মুর্শিদকে মানতে মানতে যদি রাসূল (ﷺ) মনে করেন তাহলে রিসালাতের সাথে শিরক হবে। আবার নিজ মুর্শিদ ক্বিবলার জায়গায় যদি অন্য কাউকে বসানো হয় যে, উনিও যা আমার মুর্শিদও তাই অথবা মুর্শিদকে পেতে হলে উনার মধ্য দিয়ে পেতে হবে এইটা মনে করার সাথে সাথে শিরকে বেলায়েত হবে। বেলায়েতের মধ্যে শিরক হবে। নিজ মুর্শিদ ক্বিবলার সাথে তার কানেকশন থাকবে না। এখানে মুর্শিদ ক্বিবলা বাদ দিয়ে সবাই গোলাম। আপনারা অন্যায় করবেন না। কারণ অন্যায়ের বিচার আল্লাহ্ পাক করবেন। আমরা সবাই জানি যে রাতের অন্ধকারে, দিনের আলোতে, প্রকাশ্যে, গোপনে এমনকি নিজের অন্তরের মধ্যে যা গোপন করছেন এটাও কিন্তু আল্লাহ্ পাক জানেন। নাকি? চোখ দিয়ে লুকুচুরি খেলা হচ্ছে, এই চোখ দিয়ে কার প্রতি অন্যায় করা হচ্ছে- এটাও কিন্তু আল্লাহ্ পাক জানেন। চোখ দিয়েও কিন্তু জুলুম করা যায়। এগুলি খেয়াল রাখবেন আপনারা। অন্যায় জিদ কবর দিতে হবে। অন্যায় জিদ যে কবর দিতে পারবে না, সে মৃত্যু পর্যন্ত হক্বের উপর টিকতে পারবে না। সে ধ্বংস হবে। এজন্য আপনাদেরকে আমি সবসময় বলছি বাবারা হক্বের উপর টিকে থাকতে হবে। জীবন চলে যাবে মুর্শিদ ছাড়বো না। মনে থাকবে? ইনশা-আল্লাহ্! মুর্শিদ আপনার সব। এটা যেন মনে থাকে।
(বাঁকি অংশ ৪৯ পৃষ্ঠায় দেখুন)

লেখক সম্পর্কে

Related Articles

share

এখনই শেয়ার করুন

ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ

edit মন্তব্য করুন

person
email

যোগাযোগ শুরু করুন

দ্বীনি জিজ্ঞাসা বা সহায়তা দরকার?

আপনি প্রশ্ন করতে চাইলে, বিস্তারিত বার্তা পাঠাতে চাইলে বা সরাসরি কল করতে চাইলে নিচের অপশনগুলো থেকে একটি বেছে নিতে পারেন।

২৪/৭ অনলাইন সেবা
১০০+ দ্বীনি প্রশ্নের উত্তর
৫০০০+ সন্তুষ্ট মুসলিম

🛒 শপিং কার্ট

No books in the cart.