হক্বের দা'ওয়াত সিদ্দীক্বিয়া দরবার

সন্ত্রাস-জঙ্গীপনা বিরোধী সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক পীর মুরিদী সুন্নতী দরবার

check_circle উত্তর দেওয়া হয়েছে

শরীয়তের ভিত্তিতে পর্দার ভিতরে মহিলারা কি হক্বের দা’ওয়াত প্রচার করতে পারবে? 

person মহিলা মহল থেকে প্রশ্নটি করা হয়েছে, দরবার শরীফ, বগুড়া calendar_month মার্চ 14, 2026
task_alt উত্তর
Font Size:

প্রশ্ন : শরীয়তের ভিত্তিতে পর্দার ভিতরে মহিলারা কি হক্বের দা’ওয়াত প্রচার করতে পারবে? 
​উত্তর : মহিলা মহলের প্রশ্নের উত্তর বারবার দেওয়া হয়েছে যে, মুসলিম মহিলারা পর্দার মধ্য দিয়ে মহিলাদের কাছে সত্যের দা’ওয়াত দিতে পারবে। কিন্তু সতর্ক থাকতে হবে সে কণ্ঠটি যেন পরপুরুষের কানে না যায়। পরপুরুষের কানে যদি তার কণ্ঠের আওয়াজ চলে যায় এটা ইসলাম প্রচারের জন্য হবে না, এটা দুনিয়ার জন্য হবে। কারণ মহিলাদের কণ্ঠের আওয়াজও পর্দা। আর পর্দা করা ফরজ।
​এই জন্য মুর্শিদ কিবলার যে কিতাবপত্র রয়েছে এবং বয়ানগুলো আছে, এগুলো মহিলাগণ পড়া এবং এগুলো মহিলা মহলে প্রচার করা যথেষ্ট। অথবা কোনো মহিলা গ্রামে গ্রামে, শহরে শহরে, জেলায় জেলায় এই দাওয়াতের নাম করে ঘুরে বেড়াতে পারবে না। কারণ সেখানে গেলে তার মাহরাম লাগবে এবং বিভিন্ন জায়গাতে বিভিন্ন বাড়িতে অবস্থান করলে গেলে তার অবশ্যই কোনো না কোনো পুরুষের সাথে তাকে দেখা সাক্ষাৎ করতে হবে, কথা বলতে হবে। অবশ্যই তার গুনাহ হবে, সুতরাং গুনাহ করে হক্গের দা’ওয়াত দিতে বলা হয় নাই।
​সহীহ হাদীস শরীফে এসেছে,
​حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عَمْرِو عَنْ أَبِي مَعْبَدٍ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّাসٍ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تُسَافِرُ الْمَرْأَةُ إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ وَلَا يَدْخُلُ عَلَيْهَا رَجُلٌ إِلَّا وَمَعَهَا مَحْرَمٌ
​অর্থ : ইবনু ‘আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত- তিনি বলেন, নবিজি পাক (ﷺ) এরশাদ মুবারক করেন, ময়েরা মাহরাম (যার সঙ্গে বিবাহ নিষিদ্ধ) ব্যতীত অন্য কারো সাথে সফর করবে না। মাহরাম কাছে নেই এমনাবস্থায় কোনো পুরুষ কোনো মহিলার নিকট গমন করতে পারবে না। (সহীহ বুখারী-১৮৬২ নং হাদীস)
​মহিলাদের দাওয়াতি কাজ বা দ্বীনি কার্যক্রম করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো-তাদের কণ্ঠস্বর যেন কোনো পরপুরুষের কানে না পৌঁছায়। আমরা বারবার বলেছি, মহিলাদের আওয়াজ যদি ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, কিংবা মাইকের মাধ্যমে মানুষের কানে পৌঁছে যায়, অথবা কোনোভাবে পরপুরুষ তা শুনতে পারে-তাহলে তা বৈধ নয়।
​দাওয়াতের নামে হোক, মিলাদের নামে হোক, কিয়ামতের নামে হোক কিংবা জিকিরের নামে-কোনোভাবেই এমন কাজ করা যাবে না, যেখানে পরপুরুষের কানে তাদের কণ্ঠ পৌঁছায় বা বেপর্দার আশঙ্কা থাকে। এসব ক্ষেত্রে কঠোরভাবে বিরত থাকতে হবে।
​তবে শর্তসাপেক্ষে একটি সীমার মধ্যে মহিলারা দ্বীনি কাজ করতে পারেন। যেমন-নিজ বাড়িতে মহিলাদেরকে দাওয়াতি দেওয়া, অথবা এমন পরিবেশে মহিলাদের জন্য আলাদা মাহফিল করা, যেখানে পরপুরুষের কোনো প্রবেশ নেই এবং তাদের কণ্ঠও বাইরে পৌঁছায় না। এভাবে পর্দার পূর্ণতা বজায় রেখে কাজ করা যাবে।
​কিন্তু কোনো মহিলা যদি গ্রাম থেকে গ্রাম, শহর থেকে শহর, জেলা থেকে জেলায় ভ্রমণ করে, শহরের বাড়িতে অবস্থান করে এবং পরপুরুষের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ ও কথাবার্তা বলে দ্বীনি কাজ করতে চায়-তাহলে তা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কাজ মূলত দুনিয়াবি স্বার্থ অর্জনের মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়, যা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে সন্তুষ্ট করার জন্য নয়।

من نام عن صلاة أو نسيها فليصلها إذا ذكرها

এই উত্তরটি কি সহায়ক ছিল?
share

এখনই শেয়ার করুন

ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ

edit মন্তব্য করুন

person
email

যোগাযোগ শুরু করুন

দ্বীনি জিজ্ঞাসা বা সহায়তা দরকার?

আপনি প্রশ্ন করতে চাইলে, বিস্তারিত বার্তা পাঠাতে চাইলে বা সরাসরি কল করতে চাইলে নিচের অপশনগুলো থেকে একটি বেছে নিতে পারেন।

২৪/৭ অনলাইন সেবা
১০০+ দ্বীনি প্রশ্নের উত্তর
৫০০০+ সন্তুষ্ট মুসলিম

🛒 শপিং কার্ট

No books in the cart.