হক্বের দা'ওয়াত সিদ্দীক্বিয়া দরবার
সন্ত্রাস-জঙ্গীপনা বিরোধী সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক পীর মুরিদী সুন্নতী দরবার
প্রশ্ন: নামের পরে সিদ্দীকী উপাধি নাকি বংশ?
উত্তর: সিদ্দীকী-বংশ নয়, উপাধি বা অনুসরণের পরিচয়। আমার নবিজি পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখনো মেরাজ শরীফের আলোচনা করছিলেন। সেই সময় দূর থেকে হযরত আবু বকর রদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু উপস্থিত হন। নবিজি পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ডেকে বললেন- “ইয়া আবু বকর সিদ্দীকী!”
হযরত আবু বকর রদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু আরজ করলেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমার নাম তো আবু বকর। ‘সিদ্দীক’ তো আমার নামে নেই। আপনি আমাকে এই উপাধি দিলেন কোথা থেকে?”
নবিজি পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “হে আবু বকর রদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু! আপনি কি আজ রাস্তায় আবু জাহেলের সঙ্গে হওয়ার তর্কের কথা জানেন?”
তিনি আরজ করলেন,
“ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি জানলেন কীভাবে?”
তখন নবিজি পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “এইমাত্র আল্লাহ্ পাক উনার পক্ষ থেকে জিবরাঈল আমিন আলাইহিস সালাম এসে আমাকে জানিয়ে গেছেন-আজ থেকে আপনার উপাধি সিদ্দীক।”
সিদ্দীক শব্দের অর্থ: মহাসত্যবাদী-যিনি কখনো মিথ্যা বলেন না, সর্বদা সত্যকে গ্রহণ করেন। এই জন্যই তিনি হলেন সিদ্দীকে আকবর।
কিয়ামত পর্যন্ত যারা নবিজি পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার মেরাজ শরীফকে নিঃশর্তভাবে সত্য বলে মেনে নেবে-তারা সবাই সিদ্দীক। আর যারা অস্বীকার করবে-তারা আবু জাহেলের পথের লোক। নুজুল খাস, হুকুম আম। পবিত্র কুরআন ও হাদিসের বিধান হলো- কোনো ঘটনা নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে অবতীর্ণ হলেও, তার হুকুম কিয়ামত পর্যন্ত প্রযোজ্য হয়। যেমন-মুনাফিক বিশরের ব্যাপারে যে নুজুল হয়েছিল, তা শুধু তার জন্য নয়; বরং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নবিজি পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার ব্যাপারে কটুক্তি করবে, তারাও সেই হুকুমের আওতায় পড়বে। সিদ্দীকী কি বংশের নাম? না, লকব (উপাধি)? সিদ্দীক কোনো বংশের নাম নয়।
এটি একটি লকব-একটি গুণের পরিচয়।
যেমন- হযরত ওমর ফারুক রদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ফারুক তাঁর উপাধি, বংশের নাম না। পৃথিবীতে বহু মানুষ ফারুক নামে পরিচিত-তারা কি সবাই হযরত ওমর ফারুক রদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু-উনার বংশধর? না।
যে যাকে অনুসরণ করে, সে তার নাম গ্রহণ করতে পারে-এটাই ইসলামী শরীয়তের বিধান। না হলে-আমরা হানাফি লিখতে পারতাম না (আবু হানিফা (রহঃ)) আমাদের বংশ নন, আমরা তাঁর অনুসারী। শাফেয়ী, মালেকী, হাম্বলী-সবই অনুসরণের পরিচয়।
ঠিক তেমনই-
কাদেরী : শায়খ আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লহি আলাইহি উনার অনুসারী।
চিশতী : খাজা মঈনউদ্দীন চিশতী রহমাতুল্লহি আলাইহি উনার অনুসারী।
মুজাদ্দেদী: ইমাম মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমাতুল্লহি আলাইহি উনার অনুসারী।
তাহলে প্রশ্ন আসে- সিদ্দীকী কেন লেখা যাবে না?
সিদ্দীকে আকবর হযরত আবু বকর রদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু-উনার অনুসারী হলে সিদ্দীকী লেখা সম্পূর্ণ শরয়ী ও বৈধ। নামের আগে ‘মুহাম্মন্দন’ কেন লিখি? আপনি কি নবিজি পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার বংশধর না। তাহলে কেন নামের আগে মুহাম্মদ লেখেন?
কারণ- আপনি উনার উম্মত ও অনুসারী। ঠিক একই যুক্তিতে বা কিয়াসে সিদ্দীকী লেখা যাবে, কারণ এটি অনুসরণের পরিচয়।
হাদীসে কুসদীতে এসেছে:
“যে ব্যক্তি আমার কোনো অলীর সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করে, আমি আল্লাহ্ তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করি।” (বুখারী শরীফ- ৬৫০২ নং হাদীস)
যার বিরুদ্ধে আল্লাহ্ পাক যুদ্ধ ঘোষণা করেন- সে নবীর সন্তান হলেও রক্ষা পাবে না। তাই আউলিয়া কেরামের ব্যাপারে মুখে লাগাম দিতে হবে। অজ্ঞতা ও হিংসা থেকে দূরে থাকতে হবে।
শেষ কথা, আমাদের লক্ষ্য: মানুষকে আল্লাহওয়ালা বানানো, মানুষকে নবীপ্রেমিক বানানো। নাম নিয়ে ঝগড়া নয়, বংশ নিয়ে অহংকার নয়, বরং হক্ব ও সত্যের অনুসরণ।
আল্লাহ্ পাক আমাদের সবাইকে সত্য বোঝার, সত্য মানার এবং সত্যের ওপর অবিচল থাকার তৌফিক দান করুন- আমীন।
من نام عن صلاة أو نسيها فليصلها إذا ذكرها
যোগাযোগ শুরু করুন
আপনি প্রশ্ন করতে চাইলে, বিস্তারিত বার্তা পাঠাতে চাইলে বা সরাসরি কল করতে চাইলে নিচের অপশনগুলো থেকে একটি বেছে নিতে পারেন।