হক্বের দা'ওয়াত সিদ্দীক্বিয়া দরবার
সন্ত্রাস-জঙ্গীপনা বিরোধী সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক পীর মুরিদী সুন্নতী দরবার
প্রশ্ন: যোহরের ও জুম‘আ নামাজের সময় শেষ হয় কখন?
উত্তর: যোহরের ও জুম‘আ নামাজের সময় আছর পর্যন্ত স্থায়ী থাকে। নিম্নে সনদসহ সহীহ দলীলসমূহ দেওয়া হলো:
بَابُ إِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ يَوْمَ الْجُمُعَةِ.
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرِ الْمُقَدَّمِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا حَرْمِيُّ بْنُ عُمَارَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو خَلْدَةَ، هُوَ خَالِدُ بْنُ دِينَارٍ، قَالَ، يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ كَانَ إِذَا اشْتَدَّ الْبَرْدُ بَكَّرَ بِالصَّلَاةِ، وَإِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ أَبْرَدَ بِالصَّلَاةِ، يَعْنِي الْجُمُعَةَ. صحيح بخاري – كتاب الجمعة ٩٠٦.
জুমআ‘র দিন সূর্যের উত্তাপ যখন প্রখর হয়—
আনাস ইবনু মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রচণ্ড শীতের সময় প্রথম ওয়াক্তেই সালাত আদায় করতেন। আর তীব্র গরমের সময় ঠান্ডা করে (বিলম্ব করে- সালাত আদায় করতেন। অর্থাৎ জুম‘আর সালাত। (-বুখারী জুমআ‘ অধ্যায়-১০৬ নং হাদীস আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৬০)
بَابُ الْإِبْرَادِ بِالظُّهْرِ فِي شِدَّةِ الْحَرِّ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، وَأَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا كَانَ فَإِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ، وَالْجُمْعَةَ (اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا بِالظُّهْرِ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ)
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ মুবারক করেন, গরমের তীব্রতা বেড়ে গেলে তোমরা (যোহরের ও জুম‘আর সালাত ঠান্ডা করে (গরম কমলে) পড়ো। কেননা গরমের তীব্রতা জাহান্নামের উত্তাপ বিশেষ।
দ্বিতীয় ছবি (পৃষ্ঠা ৩৮)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ أَوَّلَ حِينٍ تَزُولُ الشَّمْسُ، وَإِنَّ آخِرَ (وَقْتِ الظُّهْرِ وَالْجُمُعَةِ) وَقْتُهَا حِينَ يَدْخُلُ وَقْتُ الْعَصْرِ.
হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন, নবিজি পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জুম‘আ ও যোহরের শেষ ওয়াক্ত হচ্ছে আছরের ওয়াক্ত প্রবেশ করার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত। (সুনানুত তিরমিযী-হাদীস নং: ১৪১)
এই সমস্ত সহীহ হাদীসের ব্যাখ্যায় বিশ্বখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানগণ ওতার পর থেকে সূর্যের তেজ কমা শুরু হয় বলে মত পোষণ করেছেন এবং উমদাতুল কারী শরহে বুখারীর লেখক বদরউদ্দিন আইনি লিখেন, ২য় খন্ডের ৫৩৫ পৃষ্ঠা-
قُلْنَا الْجَوَابُ مِنْ جِهَةِ أَبِي حَنِيفَةَ اللَّهُ أَمَرَ بِإِبْرَادِ أَبْرَدُوا بِالظُّهْرِ يَعْنِي صَلُوهَا إِذَا سَكَنَتْ شِدَّةُ الظُّهْرِ بِقَوْلِهِ الْحَرَّ وَ اشْتِدَادِ الْحَرِّ فِي دِيَارِهِمْ يَكُونُ فِي وَقْتِ صَيْرُورَةِ ظِلِّ كُلِّ شَيْءٍ مِثْلَهُ وَلَا يَفْتُرُ الْحَرُّ إِلَّا بَعْدَ الْمِثْلَيْنِ.
পবিত্র কুরআন শরীফ ও সহীহ হাদিসের দলিলের ভিত্তিতে ইমাম আজম রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার ফতোওয়া গ্রাহ্য মতের দলীল এই, নবীজি পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের নামাজ সূর্যের উত্তাপ শীতল হলে আদায় করতেন। সূর্যের উত্তাপ বেশী হয় ছায়া এক গুণ হলে অর্থাৎ ওটা পর্যন্ত। প্রত্যেক বস্তুর দ্বিগুণ ছায়া হলে, উক্ত উত্তাপ শীতল হয়ে থাকে। (এতে প্রমাণিত হলো যে, প্রত্যেক বস্তুর দ্বিগুণ ছায়া হওয়া পর্যন্ত যোহরের ও জুম‘আর ওয়াক্ত থাকে)। যেহেতু দ্বিগুণ ছায়া হলে আছরের ওয়াক্ত শুরু হয়। (বুখারী-৫৩৪, ৫৩৭, মুসলিম: ৬১১-৪, ৬১১-৩;)
(দলীল-সহীহ বুখারী জুমআ‘র অধ্যায় ১০৬ নং হাদীস, সুনানু তিরমিযী, হা/১৫৭; সুনানু নাসাঈ, ইবনু মাজাহ; আবু দাউদ; ইবনুল হুমাম; ফতুল কাদির, ১/২২০; ২২৯, উমদাতুল কারী শরহে বুখারী, নাসবুর রায়াহ; ১/৩৫৫, এরশাদুশ শারী শরহে বুখারী, ফতুল মুনয়ীম শরহে মুসলিম, ফতুল মুলহিম শরহে মুসলিম, মুসনাদু আহমাদ, হা/৭১৭২; বায়হাকী: সুনানুল কুবরা, হা/১৭৬০; সুনানু তিরমিযী, হা/১৫১; ত্বাহাভী শরীফ, হা/৯০৭, কাচ্চান: বাদায়ীউছ ছানায়ী, ১/৩১৭; সহীহ মুসলিম, হা/১২৬৫; সুনানু আবু দাউদ, হা/৩৯৩; সুনানু তিরমিযী, হা/১৪৯; বায়লারী: নাছবুর রায়াহ, ১/২৯৫; তাখরীজ কুতুবুত সিত্তাহ:-বুখারী-৫০৪, ৫০৭, মুসলিম: ৬১১-৪, ৬১১-৩; তিরমিযী: ১৫৭, ২৫৬২; নাসাঈ ৫০০, আবু দাউদ- ৪০২, আহমাদ-১০৯০, ১০২৪, ৭৫৫৮, ৭৭৯০, ২৭৮৮৩, ৪৩৩৭, ৮৮৩৮, ৮৮৬১, ৮৮৮১, ৮৯৩৯, ২৯১৪৮, ৯৬৩৯, ১০১২৮, ১০১৬০, ১০২১৮, ১১১০৮, মুয়াত্তা মালিক- ২৮, ২৯; দারিমী-১২০৭, ২৪৮৫; ইবনু মাজাহ-৬৭৭; তাহকীকে আলবানী; সহীহ হাদিস, কওমীদের বেহেশতী জেওর আশরাফ আলী থানবী, ফুরফুরা শরীফের মাওলানা রুহুল আমিন বশিরহাটি রহমাতুল্লহি আলাইহি লিখিত কিতাব, ছারছীনার ছাপানো ফতোওয়ায়ে সিদ্দীকিয়া এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক লিখিত কিতাবসহ অসংখ্য সহীহ কিতাব)
من نام عن صلاة أو نسيها فليصلها إذا ذكرها
যোগাযোগ শুরু করুন
আপনি প্রশ্ন করতে চাইলে, বিস্তারিত বার্তা পাঠাতে চাইলে বা সরাসরি কল করতে চাইলে নিচের অপশনগুলো থেকে একটি বেছে নিতে পারেন।